
ময়মনসিংহ টু কিশোরগঞ্জ ৬০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে নেই কোন ফুটপাত ও ওভার ব্রীজ। ফলে সড়ক দূর্ঘটনা ও
পথচারীদের মৃত্যু বেড়েই চলছে। ফুটপাত হচ্ছে প্রধান সড়কের পাশাপাশি তৈরিকৃত জনসাধারণের পায়ে হাটার পথ। মহাসড়কের পাশে ফুটপাত এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওভারব্রীজ থাকা অতীব জরুরী তথা বাঞ্চনীয়। সাধারণত ফুটপাতগুলো সড়কের তুলনায় একটু উঁচু করে বানানো হয় এবং সড়কের যানবানহন চলাচলের অংশ হতে এটিকে একটি প্রতিবন্ধক দ্বারা পৃথক করা থাকে। আর পথচারীর পথ চলা সুযোগ নয়, এটা তাদের অধিকার। তাই মহাসড়কের চৌরাস্তা মোড়ে এবং রাস্তার দুপাশে অবস্থিত বিভিন্ন হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ফুটপাত ও ওভারব্রীজ প্রয়োজন। যেহেতু ময়মনসিংহ টু কিশোরগঞ্জ সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়ক, তাই এর দুপাশ ঘিরে গড়ে উঠেছে বাসা-বাড়ি। রয়েছে গ্রাম্য পরিবেশে জনগণের পথ চলা। ফুটপাত না থাকায় গ্রামের লোকজন মহাসড়কের উপর দিয়ে পথ চলে। ফলে মহাসড়কের চলমান দ্রুততম যানবাহনের চাঁকার পিষ্টে নিষ্পেশিত হয় অনেকের
জীবন। দুর্ঘটনায় নিহত পরিবার স্বজনদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর প্রায় অর্ধ শতাধিক পথচারীর মৃত্যু ঘটছে। এছাড়াও পথচারীদেরকে বাচাঁতে গিয়ে যানবাহন চালক ও তাঁর গাড়ীর যাত্রীদেরকে প্রাণ দেওয়ার
অসংখ্য ঘটনাই ঘটে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলছে। সরজমিন দেখা গেছে, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ৬০ কিলোমিটার রাস্তায় কোথাও নেই কোন ওভার ব্রীজ। মহাসড়কের দুপাশে পায়ে হাটার মতো পথচারীদের নেই কোন পরিবেশ তথা ফুটপাত। রাস্তার কার্পেটিং ছাড়া ফুটপাতের জন্য আলাদা পৃথক কোন মাটির বা পাকা কোন পথ নেই। মহাসড়ক থেকে সরে দাড়ানোর জন্য নেই কোনো আলাদা ব্যবস্থা। জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে
কোনমতে মহাসড়কের উপর দিয়েই পথ চলতে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ সদর বাসস্ট্যান্ড ও ময়মনসিংহ জেলা সদর বাসস্ট্যান্ডেও নেই কোন ওভারব্রীজ। এছাড়া উক্ত মহাসড়কে
প্রায় ৩০ টিরও বেশী বাস স্ট্যান্ড রয়েছে। এ সমস্ত এলাকায় পথচারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর বাসস্ট্যান্ড, বড়পুল নামক স্থান, নান্দাইল চৌরাস্তা, নান্দাইল সদর, কানারামপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুর, শম্ভুগঞ্জ ও ময়মনসিংহ সদর এরকম ১৪/১৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে যেখানে ফুটপাত সহ ওভারব্রীজ প্রয়োজন। নান্দাইল হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে প্রায় শতাধিক দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক পথচারীর মৃত্যু ঘটেছে। এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলার মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা,মহাসড়কের দুপাশে মাটি ভরাট করে গ্রামীণ পথচারীদের জন্য ফুটপাত এবং গুরুত্বপূর্ণস্থানে ওভারব্রীজ তৈরীর জন্য মাননীয়
পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া ও ময়মনসিংহ বিভাগের সড়ক ও জনপথ
অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন একমত পোষন করে বলেন,মহাসড়কের পাশে দিন দিন অপরিকল্পিতভাবে বাসা-বাড়ি গড়ে উঠছে। এটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব ও জনসংখ্যা বৃদ্ধিরও অন্যতম কারণ। তবে সকলকেই ট্রাফিক আইন মেনে চলা উচিত। এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ-টু কিশোগরঞ্জ মহাসড়কের পাশে ফুটপাত তৈরী ও ওভার ব্রীজ তৈরীর কোন উদ্যোগ আমাদের হাতে নেই। তবে বিষয়টি শীঘ্রই প্রস্তাবণায়
আনবো।