
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে অবশেষে হাতেনাতে ধরা পড়েছে ৪ ট্রান্সমিটার চোর। এরা সংঘবদ্ধ ট্রান্সমিটার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। আজ শনিবার গভীর রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সরাইলের ইসলামাবাদ (গোগদ) এলাকায় জনতা আটক করেছে তাদের। পরে উত্তমমাধ্যম দিয়ে চোরদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ১১ বান্ডিল কয়েল তার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সেচ প্রকল্পের ও ইসলামাবাদ গ্রামের একাংশের পিডিবি’র গ্রাহকদের জন্য অনেক আগেই বসানো হয়েছে একটি ট্রান্সমিটার। শনিবার রাত আড়াইটার দিকে মহাসড়কের পাশে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে হাজির হয় চোর চক্রের সদস্যরা। সড়কের পাশের ওই ট্রান্সমিটারটি খুলতে শুরু করে। ট্রান্সমিটারটির ভেতরের কয়েলে ব্যবহৃত মূল্যবান ধাতব তামার ক্যাবল বের করার সময় টের পেয়ে যায় স্থানীয় কয়েকজন লোক। তারা তখন ওই চোরদের চারিদিকে ঘেরাও করে ফেলে। এ সময় মহাসড়কের চলাচলকারী যাত্রীবাহী কোচ থেকে লোকজন নেমে জনতার সাথে যোগ দেয়। তারা হাতেনাতে ধরে ফেলে চার চোরকে। উত্তমমাধ্যম দিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে কিন্তু এই চক্রের অন্য সদস্যরা পিকআপ ভ্যান নিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন। আটককৃত ৪ চোর হলো নাসিরনগর উপজেলার গুজিয়াখাইল এলাকার ছাদেক মিয়া, সরাইলের অরুয়াইল ইউপির রাণিদিয়া গ্রামের জুয়েল মিয়া, পাকশিমুল ইউপির হারিজ মিয়া ও সরাইল সদর ইউপির মোঃ তারেক।
আজ ভোরে এলাকাবাসী ৪ চোরকে সরাইল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। সরাইল পিডিবি’র জনৈক ব্যক্তি জানান, এই সিজনে সরাইলে কম করে হলেও ১০-১৫ টি ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছে। এরা ট্রান্সমিটার খোলার কাজে খুবই দক্ষ। শুধু সরাইল নয় পিকআপ ভ্যান নিয়ে সমগ্র দেশেই সংঘবদ্ধ এই চক্রটি ট্রান্সমিটার চুরি করছে। এরা ট্রান্সমিটারের মূল্যবান ধাতব পদার্থ শুধু তামার ক্যাবল গুলো বের করে নিয়ে যায়। একটি ট্রান্সমিটারে কমপক্ষে ২ থেকে আড়াই মণ ক্যাবল থাকে। যার বাজার মূল্য ২ লক্ষাধিক টাকা। গত ২-৩ মাস আগে সরাইল সদরের উচালিয়াপাড়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন পাশের সড়কের ও সৈয়দটুলা গ্রামের বন্দের বাড়ি পশ্চিম পাশের সড়কের সেচ প্রকল্পের ট্রান্সমিটারের কয়েলের ক্যাবলও চুরি হয়েছে।
সরাইল পিডিবি’র উপসহকারি প্রকৌশলী সুমন হোসেন সর্দার বলেন, কর্তৃপক্ষকে একটি ট্রান্সমিটার ৫-৬ লাখ টাকায় ক্রয় করতে হয়। সামান্য লাভের জন্য গ্রাহক ভোগান্তি ও কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের ঘাটতিতে ফেলছে। এই বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৪ চোর বর্তমানে থানার কাস্টডিতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ চুরির অপরাধে মামলা হবে।