
রাজশাহীর তানোরে আ’ লীগ কর্মি জিয়াউর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তালন্দ ইউনিয়ন আ’ লীগ সাধারন সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আবুল হাসানকে প্রধান করে ১৫ জনকে আসামী করে তানোর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার রাতে নিহতের বড় রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ১ নারীসহ আটক ৩জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করেছেন তানোর থানা পুলিশ। ওই মামলার অন্য আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
অপর দিকে নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে বুধবার রাতে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পূর্ণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হাসান মেম্বারসহ মামলার অন্য আসামীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। এঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থার পাশাপাশি শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, মহান একুশে ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার রাতে মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরী উপজেলা পরিষদ চত্বর শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসবেন এমন খবরে এলাকার নেতা-কর্মিদের সাথে মটরসাইকেল যোগে তানোরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
জিয়াউর রহমান (৪২) বিলশহর গ্রামের মৃত মহির উদ্দীনের পুত্র।
বুধবার ভোর ৫টার গ্রামবাসী ক্ষত বিক্ষত লাশ ও মটরসাইকেল বিলশহর গ্রামের রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখে নিহতের পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে তানোর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন এবং সন্দেহ মুলক ভাবে এক নারীসহ ৩জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
আটককৃতরা হলেন, তালন্দ ইউনিয়ন আ’ লীগ সাধারন সম্পাদক ও তালন্দ ইউপির ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল হাসান আলীর ২য় স্ত্রী বিলশহর গ্রামের তারাবানু সুমি (৩২), লালপুর গ্রামের লথুর পুত্র ফরহাদ আলী (৩৪) ও একই গ্রামের আলাউদ্দিনের পুত্র সোহান আলী (৩০)।
এঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থলে পিবিআই ক্রাইম সিনের টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাসান মেম্বারের সাথে বর্তমান তালন্দ ইউপির চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন বাবু ও জিয়াউর রহমানের মধ্যে ত্রিমুখী দ্বন্দ চলে আসছিলো।
তানোর থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, এঘটনায় ১৫ জনকে আসামী করে তানোর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ৩ জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।