
নড়াইলে লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ভাষা শহীদদের স্বরণ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠে (কুড়িরডোব মাঠে) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ভাষা শহীদদের স্মরণ করলো নড়াইলবাসী।
মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশু ভীড় জমায়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশ উদযাপনে বুধবার সন্ধ্যা লাগার সঙ্গে সঙ্গে লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।
একুশের আলো, নড়াইল এই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। লাখো মোমবাতি দিয়ে কুড়িরডোব মাঠে প্রজ্জ্বলন, স্মৃতি সৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় ফুল শাপলা, আল্পনা ও বাংলা বর্ণমালা দিয়ে কুড়িরডোপ মাঠ সাজানো হয়।দেশের বিভিন্নস্থান থেকে দেখতে আসা দর্শনার্থীরা খুশি এ অপরুপ দৃশ্য দেখে।দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড়ে মাঠে তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না।
মোমবাতি প্রজ্জ্বলন দেখতে আসা নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ফারদিন শাহরিয়ার খান জানায়, অনেক মোমবাতি এক সঙ্গে জ্বালিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন ও ভাষা শহীদদের স্বরণ করতে দেখে খুব ভালো লেগেছে।
বিভিন্ন শ্রেণী পেশার একাধিক নারী জানান, নিজে আনন্দ উপভোগ করতে এবং বাচ্চাদের আনন্দ দিতে ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি।
সন্ধ্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী। এসময় পুলিশ সুপার মো: মেহেদী হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাশ্বতী শীল, নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, নাট্যব্যক্তিত্ব কচি খন্দকার, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুন্ডু, সাধারন সম্পাদক শরফুল আলম লিটুসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নড়াইলে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের ব্যতিক্রমী এ আয়োজন ১৯৯৭ সালে সুলতান মঞ্চ চত্বরে প্রথম শুরু হয়।