
হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক অসহায় শিশুর আর্তনাদের কান্নায় ভারী পুরো এলাকা ।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ২ নং চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে কয়েক সপ্তাহ আগে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ধসে তাদের বাড়িতে পড়লে বৈদ্যুতিক শর্ট লেগে সেতু নামে ৯ বছরের এক শিশুর মুখমন্ডল ঝলসে যায় । শিশুটি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বর্তমানে কিছুটা সুস্থ হলেও চিকিৎসার অভাবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি । অসহায় শিশুটির চিকিৎসার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে মৌখিক দুঃখ প্রকাশ করা হলেও শিশুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তার হতদরিদ্র পরিবারের জন্য যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে!
সেতুর মা রওসন আরা স্বামী পরিত্যক্তা । পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। বহু কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে তাদের জীবন । দিন আনে দিন খায় এমন অভাব অনটনের সংসার। সেতু লেখাপড়ার জন্য স্কুলেও যেতে পারছে না ।ঢাকার বার্ন ইউনিটে উন্নত চিকিৎসা করানোর সক্ষমতাও নেই হতদরিদ্র সেতুর মায়ের ।
ঝলসে যাওয়া মুখমন্ডলের প্রচন্ড ব্যাথায় সেতু কাদছে আর বার বার বলছে তার বাবার কথা !কিন্তু সেতুর বাবাও একটি মারামারির ঘটনায় জেলে বন্দি । এখন মা ও মেয়ের চোখের পানিই যেন একমাত্র নিয়তি !
২০ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার রাতে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফয়সাল ফোন দিয়ে তাদের সার্বিক খোঁজ খবর নেন।ইউএনও কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তির মুখ দেখছেন সেতুর মা রওশন আরা। এখন শুধু ইউএনও’র সহযোগিতার আশ্বাস বাস্তবায়নের অপেক্ষায় দিনগুনছে ওরা।
মাধবপুরের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পিয়ারা বেগম জানান, আসলে মেয়ে শিশুটি অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছে। আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা থাকবে। এছাড়া এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদেরও বেশি দায়িত্ব রয়েছে শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে।