
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় লাগামহীন পুকুর খননকারীরা। তারা নানা ছলে-বলে, কলে-কৌশলে, একের পর এক পুকুর খনন করেই চলেছে। সব চেয়ে বেপরোয়া বাগমারার প্রভাবশালী পুকুর খননকারীরা।
একই সাথে বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের রায়সেনোপাড়ায় ঝিকরা সর্দার পাড়ার আব্দুর রাজ্জাক পুকুর খনন করছেন। তিনি গভীর নলকূপের ড্রেন, পানির আউটলিটার ভেঙে পুকুর খনন করছেন। দিনে বন্ধ রাখেন রাতে পুকুর খনন চলে।
ভবানীগঞ্জ পৌর সভার দরগা মাড়িয়া মৌজায় শিবেন কুমার বিশাল দিঘি খনন করছেন। তিনি আঁকড়াক না করে প্রকাশ্য ৫/৬ টি এস্কেভেটর দিয়ে পুকুর খনন করে চলেছেন।
তার উত্তর পাশে আরেকজন প্রভাবশালী ঢাকডোল পিটিয়ে বিরাট আকারের দিঘি খনন করে করছেন।
ভবানীগঞ্জ পৌর মেয়রের ভাই আব্দুস সাত্তার তিনিও একটি পুকুর খনন করছেন।
অন্য দিকে শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের দু’বিলায় পুকুর খননের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ খবর লেখার সময় একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার মধ্যরতে দু’বিলায় পুকুর খনন শুরু করেছেন প্রভাবশালীরা ।
স্থানীয়দের সাথে কথা বল্লে কেই মুখ খুলতে শাহস দেখান না, প্রভাবশালীদের ভয়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষকরা জানান, যদি ১৯৮৮-১৯৯৫ সালের মত বন্যা হয় তাহলে বাগমারা অন্তত ১৫ দিন পানির নিচে তলিয়ে থাকবে।
রাজশাহী জেলার উচ্চ ফলনশীল আবাদি কৃষি জমি ধ্বংস করে বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় চলছে পুকুর খননে মহোৎসব। স্থানীয় প্রশাসনকে বিঘা প্রতি ২০ হাজার টাকায় ম্যানেজ করেই খননকারীরা পছন্দমত বিলে আবাদি জমিতে রাতারাতি খননযন্ত্র নামিয়ে দিয়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে চালিয়ে যাচ্ছে পুকুর খননেন অসম প্রতিযোগিতা।
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, ম্যানেজ নীতিতে বাদ থাকে না প্রশাসনের গাড়ির ড্রাইভার ও অফিসের পিয়ন।
অভিযানের আগেই খননকারীদের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয় স্থানীয় প্রশাসনের গাড়ির ড্রাইভার ও অফিসের পিয়ন । ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে দায়সারা দু একটি অভিযান করলেও ২/১ দিন পর আবারো মেতে পুকুর খননের অসম প্রতিযোগিতা ।
এতে সর্বশান্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষিজীবী , বর্গাদার, জমি কট বা জমি লীজ গ্রহষকারী এবং সর্বোপরি স্থানীয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
ব্যাপকভাবে কৃষি জমি ধ্বংসের কারণে এই এলাকায় কৃষি ফসল উৎপাদন একদম কমে গিয়েছে। ফলে খাদ্য নিশ্চয়তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এছাড়াও অধিকহারে কৃষি জমি খননের কারণে বর্ষাকালে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে ।
এক উপজেলায় পুকুর খনন শুরু হলে আশপাশের উপজেলায়ও শুরু হয় পুকুর খনন।
পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর, তানোর, পুঠিয়া, মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট উপজেলায় চলছে লাগামহীন পুকুর খনন।
স্থানীয়তের ভাষ্য, অবৈধ পুকুর খননের ফল একদিকে যেমন লাখেরাজ সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে, অন্য দিকে তেমনি ভারী যানবাহনে করে ভাটায় মাটি বহনে পাকা রাস্তা ভেঙ্গে চুরমার হচ্ছে।
স্থানীয়রা ফসলী জমিজমা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল হোসেনের মুঠোফোনে জানতে চাইলে ওপ্রান্ত থেকে তিরি জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে রয়েছি, পরে কথা হবে।