
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরকাচিয়া গ্রাম রাহুল ঘাট, গুলু মার্কেট ঘাট এই দুটি ঘাট দিয়ে দৈনিক প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। রাহুল ঘাট ও গুলু মার্কে ঘাটে কোন ব্রিজ না থাকায় কষ্টে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে হাজারো মানুষ।
কাটাখালের দু’পাশে চর কাচিয়া গ্রাম। দু’গ্রামের ৮থেকে ১০ হাজার মানুষ দৈনিক রাহুল ঘাট ও গুলু মার্কে ঘাট দিয়ে যাতায়াত করছে। দু’টি ঘাটের কোথাও একটা ব্রিজ না থাকায় পথচারীরা খুব কষ্টে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিপদ সীমার উপরে নদীর পানির উপর দিয়েই পার হতে হচ্ছে তাদের পথ।
খালটা তেমন বড়ো না কিন্তু রাহুল ঘাট ও গুলু মার্কেট ঘাট দিয়ে যখন পথচারীরা যাতায়াত করে তখন কষ্টে তাদের পথ অনেক দীর্ঘ হয়ে যায়। রাহুল ঘাটে নেই কোন খেয়া তাই বাধ্য হয়ে পথচারীরা বিপদ সীমার উপরে নদীর পানির উপর দিয়েই লুঙ্গি উঠিয়ে কেউ আবার প্যান্ট খুলে শুধু আন্ডার প্যান্ট পরেই নদী পার হচ্ছেন। মোটরযান চালকরা খালের কোমর সম পানির উপর দিয়েই মোটরসাইকেল চালিয়ে খাল পার হচ্ছেন। গুলু মার্কেট ঘাট দিয়ে একটা ট্রলার দিয়ে খেয়া পারাপার করতে দেখা যায় মোটরসাইকেল চালকদের। কিন্তু ঐ টুকু খাল খেয়া পারাপার করতে নেওয়া হচ্ছে প্রতিটা মোটরসাইকেল থেকে ৩০ টাকা। তারপরও পার হতে পারছেনা চালকরা। পানি কম থাকায় খালের কিনারে খেয়া নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাই কয়েক হাত অর্থাৎ বেশি পানির অংশটুকু পার হচ্ছেন খেয়া দিয়ে বাকী অংশটুকু পার হতে হচ্ছে হাঁটু সমান কাঁদা দিয়ে। যাদের দৈনন্দিন ঐ ঘাট দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে তাদের দুঃখ কষ্ট দেখার কেউ নেই। এযেন অভিভাবকহীন এক রাষ্ট্রের নাগরিক ঐ অঞ্চলের পথচারীরা।
কষ্টে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মামুন নামের এক পথচারী বলেন, ” আমার প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দু’বার যাতায়াত করতে হচ্ছে। কখনও কখনও খেয়াও পাচ্ছি না। খেয়া পারাপার করলেও ৩০টাকা করে দিতে হয়। তবুও হাঁটু সমান কাঁদা দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। এতে করে একদিকে আমার মোটরসাইকেল টিও দিনদিন যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যাচ্ছে। আর কখনো কখনো তো আমি নিজেও স্লিপ কেটে পরে গিয়ে ব্যাথা পাচ্ছি। এভাবেই প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে খালের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হচ্ছে দু’বার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে এখন ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ ঘোষণা করছেন। কিন্তু এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই গ্রামের মানুষের ভাগ্য। একটা ব্রিজের জন্য হাজারো মানুষ হাহাকার করছে। কষ্টে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে এই গ্রামের মানুষগুলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ তিনি যেন আমাদের জন্য একটি ব্রিজ করে দিয়ে এই গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেন। ”
নাজমুল নামের আরেক জন পথচারী সহ প্রায় পাঁচ শতাধিক পথচারীরা এই প্রতিবেদককে বলেন, একটি ব্রিজের জন্য এই ঘাট দিয়ে খাল পারাপার করতে একদিকে যেমন কষ্ট হচ্ছে ।অপরদিকে তেমন সময় ব্যায় হচ্ছে। আমরা অনেকেই সঠিক সময় ব্যাবসায়ীক কাজ ও অফিসের কাজে যেতে পারছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ তিনি যেন দয়া করে আমাদের জন্য একটি ব্রিজ করে দিয়ে আমাদের এই কষ্ট দূর করে দেন।”
এ বিষয়ে রায়পুর ২ আসনের সংসদ সদস্য এমপি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নকে ফোন দেওয়া হলে ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা সুমন মুন্সী বলেন, ” এই মূহুর্তে ব্রিজের জন্য কোন প্রস্তাবনা নেই সামনে সুযোগ এলে অবশ্যই এখানে ব্রিজের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।