
ডেস্ক রিপোর্ট : মানিকগঞ্জে নয় বছর বয়সী শিশু তুহিনের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নিজেও আত্মহত্যারচেষ্টা করেছেন বাবা। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তুহিন ভাড়ারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার বাবার নাম মহিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিনের স্ত্রী এক বছর আগে সংসারে অভাব অনটনের কারণে কাজের সন্ধানে সৌদি আরব চলে যান। কিছুদিন পর অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে আগের সংসারে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। একমাত্র পুত্রকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন মহিন। আজ সকাল স্কুলে যাওয়ার সময় তুহিনের গায়ে পেট্রোল ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন বাবা মহিন। সারা শরীরে আগুন লেগে গেলে শিশু তুহিন দৌড়ে লিপি নামের এক প্রতেবেশীর বাড়িতে যায়। লিপি নলকূপের পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও তুহিনের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। এসময় মহিন নিজের শরীরেও আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা মহিনকে আটক করে মানিকগঞ্জ সদর থানায বিষয়টি অবগত করেন। মহিনের প্রতিবেশীরা জানান, মহিন মাঝে মধ্যেই সন্তানকে বেধড়ক মারধর করতেন। কেউ এগিয়ে গেলে তাদের উপর চড়াও হতেন। তার ভয়ে প্রতিবেশীসহ এলাকার কেউ কথা বলার সাহস পেত না। আজ নিজের সন্তানকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মহিনের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মানিকগঞ্জ সদর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিল হোসেন জানান, অভিযুক্ত মাহিন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। শিশু তুহিন ঢাকার একটি হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন।