
পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত।ভালবাসার রং ও সমুদ্রের উত্তাল টেউয়ের ছন্দে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছে পর্যটকসহ তরুণ-তরুণী। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রং-বেরঙের পোশাকে অনেকেই প্রিয় মানুষের সঙে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে এসেছেন।কেউ গা ভাসাচ্ছেন সমুদ্রের নোনা জলে। কেউ আবার প্রিয়জনকে নিয়ে তুলছেন সেলফি। অনেকে আবার বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে তারকামানের হোটেল মোটেলগুলোকে সাজিয়েছে ভালবাসার রঙে।দিবসটি উপলক্ষে কুয়াকাটার বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোতে মহিপুর থানা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারি সবকিছু মিলে জমজমাট পর্যটন কেন্দ্র সমুদ্র কন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকের উপচে পড়া ভীড় হয়েছে। কুয়াকাটায় সবক’টি আবাসিক হোটেল মোটেল ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। কুয়াকাটায় আসা এসব ভ্রমণ পিপাসুদের কথা চিন্তা করে তারকা মানের হোটেলগুলোতে দেয়া হয়েছে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা।ভালবাসা দিবস ও আগামী সপ্তাহে একুশে ফেব্রুয়ারির ছুটিতে লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন তারা।
পটুয়াখালী থেকে আসা সাইফুল-লিপি দম্পতি জানান, ২৮ বছরের সংসার জীবনে এখনো ভালবাসার কমতি হয়নি। তাইদুজনে.কুয়াকাটা সমুদ্রে ঘুরতে এসেছি। সকাল থেকে বিভিন্ন স্পটগুলো ঘুরেছি খাওয়া-দাওয়া করেছি, অনেক মজা করেছি। যশোর থেকে আসা আর এক দম্পতি মন-তালহা জানান, এ বছর নতুন বিয়ে হয়েছে তাই কুয়াকাটা সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। দিবসটি আমাদের কাছে ঐতিহ্য হয়ে থাকবে।
কলাপাড়া পৌর শহরের ফুল ব্যবসায়ী মাইনুল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মাইনুল জানান, দীর্ঘ একটি বছর চেয়ে থাকি এই দিনটির অপেক্ষায়। বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস কে কেন্দ্র করে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার ফুল উঠিয়ে ছিলাম। ইনশাআল্লাহ বেচা বিক্রি অনেক ভালো।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি জানি আলমগীর বলেন, ‘বিশ্ব ভালবাসা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ইতোমধ্যেই সমুদ্রের ভিতরে যে স্পট গুলো রয়েছে নৌ-রুটে চলাচলকারী ট্যুরিস্ট বোটের টিকিট ফোনের মাধ্যমে বুকিং হচ্ছে এবং অন্য যেসব বোর্ড রয়েছে ইতিমধ্যেই অনেকগুলো বুকিং হয়েছে। কুয়াকাটার স্থান ছাড়িয়ে সমুদ্রের ভিতর ৩০ কিলোমিটার দূরে চর বিজয়ে ভিড় জমাচ্ছে তরুণ-তরণীরা’।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন (কুটুম)’র সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক হোসাইন আমির বলেন, শুধু বিশ্ব ভালবাসা দিবস নয়, ফাল্গুন, সরকারি ছুটি ও ২১ শে ফেব্রুয়ারি বন্ধ উপলক্ষে এখন থেকে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লেগে আছে। ইতিমধ্যে ভালবাসা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন হোটেল তাদের নিজস্ব কিছু কার্যক্রম শুরু করছে। আশা করা হচ্ছে সব কিছু ঠিকটাক থাকলে এ মাসে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ভাল ব্যবসা করতে পারবে। এতে করে পর্যটন শিল্প বিকাশে অনেকটা সহায়ক হবে’।কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের মধ্যে আজ কাপলের সংখ্যা বেশি। সাধারণত মঙ্গলবার বা বুধবার এখানে তেমন পর্যটক থাকে না। তবে আজ ভালো বুকিং রয়েছে।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন’র সাধারণত সম্পাদক মোঃ মোতালেব শরীফ জানান, প্রায় হোটেলে রুম বুকিং রয়েছে আরো ফোনে বুক হচ্ছে। কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মনিরুল হক ডাবলু বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমাদের সঙ্গে থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আশা করছি পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাহাত গাওহারি জানান, ‘পর্যটকদের আগমন ও স্থানীয়দের পদচারনা নিরাপদ করতে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশ আইন শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। তাছাড়া হোটেল-মোটেলের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আলাদা টিম রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সৈকতজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে’।