
এম শাহজাহান শেরপুর প্রতিনিধিঃ কোকিল একটি অনিন্দ্য সুন্দর ও লাজুক পাখি। কোকিল মূলতঃ একটি গোত্রীয় নাম। ইংরেজি নাম Cuckoo.এশিয়া এবং আফ্রিকা জুরে এ গোত্রে প্রায় ১৩০ প্রজাতির কোকিল হয়ে থাকে।
এসব জাতের কোকিল বাংলাদেশে পাওয়া যায় প্রায় ২০ প্রজাতির। তারই মধ্যে ১৬ জাতের কোকিল অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে থাকে। আর বাকি দুই প্রজাতির কোকিলরা নিজের বাসা নিজেই তৈরি করে বা বানায়। এরা হচ্ছে সবুজ ঠোঁট মালকোয়া ও মেঠে মালকোয়া।
ঋতুরাজ বসন্ত কালে এরা ঝোঁপের আড়াল থেকে প্রাকৃতির রুপনিয়ে সু-মধুর ডাকে মাতিয়ে রাখে -কু – কুউ -কুউউ, কুহু কুহু করে। স্ত্রী কোকিলের গায়ের রং কুচকুচে কালো নয়। পুরুষ কোকিলের চকচকে গায়ে কালো রঙের মধ্যে এদের আকার মাঝারি। দৈঘ্য প্রায় ৪৩ সেন্টিমিটার, ওজন প্রায় বেশির ভাগ ১৭০ গ্রাম হয়ে থাকে, অনেক ক্ষেত্রে তারও বেশি হতে পারে। আর স্ত্রী পাখি বাদামির উপর সাদা পীতাভ চিতি রয়েছে। এদের চোখ টকটকে লাল আর ঠোঁট আপেল সবুজ। এরা নানা ধরনের রসালো ফল খায়। বিশেষ করে ডুমুর জাতীয় ফল এদের খুব প্রিয় খাবার। এছাড়াও এরা গুঁয়ো পোকা, ও পাখির ডিম খায়।মার্চ থেকে জুলাই এদের প্রজনন মাস।প্রজনন কালে পুরুষ পাখি একটি মাত্র শব্দে সুরেলা এবং তীব্র চিৎকারে বার বার ডাকে। এই ডাকের ভিতর দিয়ে পছন্দের সঙ্গী-ও সঙ্গীনি নির্বাচন করে। ডিমে তা দিয়ে ডিম ফুটানোর জন্য কুখ্যাতি আছে। এজন্য, কোকিল কে নিয়ে অনেকে অনেক কল্পকাহিনি কিম্বা মুখরোচক আলোচনার পাশাপাশি কোকিলকে বসন্তের অতিথি হিসেবে অনেকেই বলে থাকেন ” বসন্তের কোকিল” তাই কোকিলকে মারবেন না। এরা উপকারী, মানুষের কোন ক্ষতি করে না। এদের বংশবিস্তার রোধ না করে সংরক্ষণে এগিয়ে আসুন।