
রাজশাহীর বাগমারায় গলিপথে বাঁশের বেড়া এবং বাড়ীঘরে হামলা ও প্রয়োজনীয় দলিল দস্তাবেজ, স্বর্ণ, রূপা, দোকানের চাবি,নগদ টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বাইগাছা গ্রামে।
হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জনা গেছে, বাইগাছা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের পাঁচ পুত্র ও চার কন্যার মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ চলে আসছে। মাঝে মধ্যে তাদের পারিবারিক বিরোধ চরম আকারধারণ করে। গত ৩০ জানুয়ারি সামিউল ইসলামের কন্যা শান্তা ইসলাম ও তার বান্ধবী শোভা বিবাদী রবিউল ইসলাম (৪০) এর বাড়ীর পাশ দিয়ে স্কুলে যাবার পথে তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন রবিউল গংরা। শান্তার পিতা এর প্রতিবাদ করলে বাকবিতন্ডা এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রপাতি দিয়ে রবিউল গং শান্তার পিতা সামিউল.ইসলামকে বেধড়ক পেটান।
এর সূত্রধরে রবিউল ইসলাম, রুবা বিবি এবং তার অপর বোনেরা মিলে সামিউল ইসলামসহ প্রতিবেশীদের চলাচলের গলিপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। রুবা বিবি ভাতিজা সৈকতের ঘরে জোরপূর্বক তালা লাগিয়ে দেন। এই নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে সামিউল ও তাঁর স্ত্রী নাজমাকে নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন রবিউল গংরা। আত্মরক্ষায় নাজমা বাড়ীর মূল ফটক বন্ধ করে দেন। ভিডিও ফুটেজে বাহির থেকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের শব্দ ও হুমকি দিতে শোনা গেছে।
সামিউল ও তার স্ত্রী নাজমা প্রাণভয়ে অন্যত্র আত্মগোপন করেন। প্রতিবেশী বাইগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোনালিসা জানিয়েছে, আমরা শান্তাদের মুরগি,রাজহাঁস সহ গবাদিপশুকে খাবার দিচ্ছি এই জন্য রুবিনা আমাদের নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিয়েছে। প্রতিবশেী আমিনুল ইসলমের কাছে জানা গেছে, এদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের।
এ ঘটনায় সামিউল ইসলাম তিন জনের নামে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই সুযোগে ( ৯ ফেব্রুয়ারি/২০২৪) শুক্রবার গভীর রাতে সামিউলের বসতবাড়ীর তালা ভেঙ্গে বাড়ীর আসবাব, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সোনা, রূপা, মূল্যবান জিনিসপত্র তছনছ করে দুস্কৃতকারীরা। সংবাদকর্মীরা সরজমিন উপস্থিত হলে গলিপথে বাঁশের বেড়া ও বাড়ীঘরের আসবাবপত্র হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই জিল্লুর রহমান।
পুলিশ বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিলে রবিউলের লোকজন তা নাকচ করে দেয়, বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়। বাড়ীঘর তছনছের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে, অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম জানান, আমরা এর কিছু জানি না। তবে রাত একটার দিকে তিনি কুকুরের ঘেঁউ ঘেঁউ চিৎকার শুনেছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (৯ ফেব্রিয়ারি/২০২৪) শুক্রবার গভীর রাতের ঘটনায় থানায় বারো জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়েরের করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাগমারা থানার ওসি অরবিন্দ সরকারের মুঠোফোনে কল দিলে (সরকারি নম্বরে) ও প্রান্ত থেকে উপ-পরিদর্শক সুব্রত জানান, স্যার অসুস্থ , আমি জেনে আপনাদের জানাতে পারবো।