
ডেস্ক রিপোর্ট: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২৩টি আসন জিতে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পর গণভবনে ‘বিশেষ বর্ধিত সভা’ ডেকেছে আওয়ামী লীগ। আজ সকাল ১০টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ এই সভা থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের দুটি বিশেষ বার্তা দেয়া হবে। এগুলো হচ্ছে- তৃনমূল পর্যায় পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভেদ মেটানো এবং আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি বলয় তৈরি না করা। বর্ধিত সভায় দলীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানান, বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জেলা-মহানগর ও উপজেলা-থানা-পৌর (জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা) আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সংসদের দলীয় ও স্বতন্ত্র সদস্য, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যান,সিটিকরপোরেশন ও পৌরসভার দলীয় মেয়র এবং সহযোগীসংগঠনসমূহের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন। দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সামনের স্থানীয় নির্বাচনটি নানা কারণে চ্যালেঞ্জের হবে। এতে কী কী চ্যালেঞ্জ আসছে- চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় কী- তার একটি দিকনির্দেশনা আসবে বৈঠক থেকে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে, নিজেদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। সেটা নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা আসবে। এ ছাড়া দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নানা বার্তা আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা দেবেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা জানান, বিশেষ বর্ধিত সভায় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীর বিষয় আলোচনাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। দলের কোন্দল নিরসনে দলীয় প্রধান নিদের্শনা দেবেন। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুুক্ত রাখা হবে নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করতে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন, মহানগর ওয়ার্ড কমিটি, মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনের কমিটি, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন কর্মসূচি প্রতিহত করার বিষয়ও থাকবে। আওয়ামী লীগের এমপি এবং দলের পদ-পদবি আছে কিন্তু স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সঙ্গে মিলে কাজ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে নেতাকর্মীদের। তারা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে এই বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। বর্ধিত সভা থেকে তৃণমূলের দ্বন্দ্ব-সংঘাত বন্ধ করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংযত হওয়ার বার্তা দেবেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়া আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে কৌশলী বার্তা দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি । তবে বিএনপি নির্বাচনে না এলে সবার জন্য প্রার্থিতার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হবে। আর বিএনপি নির্বাচনে এলে উন্মুক্ত রাখা হবে না। উপজেলা নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক না দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচন ঘিরে নিজেদের মধ্যে যেন কোনো সংঘাত তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা থাকবে বর্ধিত সভায়। এতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের নিজ নিজ বিভাগের সাংগঠনিক পরিস্থিতিও তুলে ধরতে পারেন। মূলত কেন্দ্রের বার্তা পৌঁছে দিতেই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় নেতারা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। দল ও সরকারের ভাবমূর্তি যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন্ন্ন না হয় সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হবে। এ ছাড়া বিএনপি সামনের দিনে কর্মসূচি দিলে তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়েও দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় তৃণমূলের নেতারা দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার কাছে তুলে ধরবেন নিজেদের নানা সমস্যা ও অভিযোগের কথাও।