
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন,
সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (৭ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার সময়ে বান্দরবান জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার নাইক্ষ্যংছড়ি -তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শন শেষে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
বিজিবির মহা পরিচালক এক প্রেস ব্রিফিং বলেন,পুরো মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতি চলছে। যার প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেও এসে পড়েছে।
প্রতিনিয়ত সেখানকার অস্থিতিশীল অবস্থা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশ না পড়ে সে বিষয়ে মিয়ানমার জান্তা সরকারকে অবগত ও দ্রুত তাদের বিজিপি সদস্যেদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চেষ্টা চলমান।
এমন অবস্থায় সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করতে আসেন বিজিবি প্রধান।
বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ানের আওতাধীন বাংলাদেশ- মায়ানমার সীমান্তের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু বিওপি ও ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি দায়িত্বরত সব পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এসময় তিনি সকল বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তে উদ্ভূদ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
এ সময় বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার, রামু সেক্টর কমান্ডার,নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবর অধিনায়কসহ বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকতাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য গত সপ্তাহব্যাপী নাইক্ষ্যংছড়ি মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু, ঘুমধুম এলাকায় আরকান বিদ্রোহী গ্রুপের সাথে মিয়ানমারের সরকারী বাহিনীরর ব্যাপক গোলাগুলি, মর্টারশেলের গোলা, হেলিকপ্টারের সাহায্যে বোমা বর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিতে ৫ বাংলাদেশী গুরুতর আহত সহ রকেট ও মর্টারশেলের গোলায় এক বাংলাদেশী নারী ১ রোহিঙ্গা নাগরিক সহ ২জন নিহত হয়। এছাড়াও রকেট লান্চারের গোলায় বসত ঘর বিধস্থ হয়। ৫ গ্রামে ছিল জন মানব শূন্য। পাশাপাশি বাজার ঘাট ছিল বন্দ।
তবে গতকাল রাতের মাঝামাঝি সময় থেকে তুমব্রু সীমান্তে কোন প্রকার গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাইনি বলে জানালেন স্থানীয় ইউপি সদস্য দীল মোহাম্মদ ভুট্টো।
ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, মোটামোটি পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেলে ও আতংক কাটেনি। এ পরিস্থিতির কারনে উত্তর ঘুমধুম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র অনেকের ঠাই হয়েছে। আজ পরিস্থিতি একটু শান্ত থাকায় অনেকে বাড়ীতে ফিরছে। ঘুমধুম সীমান্তে হালকা গোলির আওয়াজ আসলেও পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ার পথে। এমন সময়ে এবার টেকনাফের হোওয়াক্ষ্যং দিয়ে ৬৩ জন বিজিপির সদস্য প্রবেশ করেন। ঘুমধুম ও হোওয়াক্ষ্যং দুই সীমান্ত দিয়ে এ সংবাদ লেখা কাল পর্যন্ত মোট ৩২৭ বিজিপি ও সেনা সদস্য প্রবেশ করেন। বর্তমানে তার বিজিবির হেফাজতে আছেন। গত
মঙ্গলবার এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত পরিদর্শনে আসেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক মুজাহিদ উদ্দিন ও জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সৈকত শাহীন। জেলা প্রশাসক ঝুঁকিত বসবাসকারী জনগণকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।