ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে মোদির সঙ্গে কথা বললেন ড. ইউনূস
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
ঈদ পরবর্তী বিআরটিএর বিশেষ অভিযান: ৬ লাখ ৮৭ হাজার জরিমানা,২৮৯ মামলা
রায়পুরে আ’লীগ বিএনপির যৌথ হামলায় নারীসহ আহত ৫
পাঁচবিবিতে শিক্ষার্থী সমিতির স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন
মহানবী সাঃ কে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল
ভোলায় হাতবোমা-মাদকসহ ৫ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আটক
নবীনগরে তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১২
নেত্রকোণা সরকারি কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
রামুর ঐতিহ্যবাহী গর্জনিয়া ফইজুল উলুম মাদ্রাসার মিলন মেলা বর্ণঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন
ঢোলবাদক বিনয়বাঁশী জলদাস এর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ৫ এপ্রিল শনিবার
তুচ্ছ ঘটনায় ছাদে ডেকে নিয়ে বন্ধুকে ছুরিকাঘাত
বোয়ালমারীতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হাতকাটা শাহিদুল গ্রেপ্তার
কচ্ছপিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে ঈদ পুর্ণমিলন অনুষ্ঠান

‘হামুন ’ মোকাবেলায় প্রস্তুত আমতলী-তালতলীর ১৭৬ সাইক্লোন শেল্টার

বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এ পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ উপকুলীয় এলাকায় (৭) হুঁশিয়ারি সংকেত জারী করেছেন হামুন ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য বরগুনার আমতলী ও.তালতলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৭৬টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই দু’উপজেলা রেড ক্রিসেন্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়
“হামুন” মোকাবেলায় প্রস্তুতি হিসেবে আমতলী উপজেলায় ১১১টি ও তালতলী উপজেলায় ৬৫টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আমতলী ও তালতলী দু’উপজেলার ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি ৩৪৬০ পুরুষ ও মহিলা স্বেচ্ছাসেবকরা ঘূর্ণিঝড় “হামুন” সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতন করতে প্রচার- প্রচারণা চালাচ্ছেন।
আমতলী উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় “হামুন ” মোকাবেলায় উপজেলা ঘূর্ণিঝড় .প্রস্তুতি কর্মসূচি ২৩০০ পুরুষ ও মহিলা স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রাম-গঞ্জের মানুষদের সচেতন করতে প্রচারনা চালাচ্ছেন।
অপরদিকে সমুদ্রঘেষা পায়রা (বুড়িশ্বর) ও আন্ধারমানিক দু’টি বৃহৎ নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত আমতলী ও তালতলী উপজেলা অবস্থিত। তালতলী উপজেলার পচাঁকোড়ালিয়া, কড়াইবাড়িয়া, শারিকখালী, ছোটবগী, বড়বগী, নিশানবাড়িয়া ও সোনাকাটা ইউনিয়ন সমুদ্রের নিকটবর্তী হওয়ায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া, আমতলী সদর, আমতলী পৌরসভা, চাওড়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়ন পায়রা নদীর তীরবর্তী স্থানে হওয়ায় এ এলাকাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় একাধিক সাইক্লোন, ঝড়, জলোচ্ছাস,ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে আমতলী ও তালতলী উপজেলায়।
এতে ব্যাপক জানমালের ক্ষয় হয়েছে। ১৯৭০ সালে ১২ নভেম্বর আমতলী ও তালতলীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ২০০৭ সালে সুপার সাইক্লোন সিডরে আমতলী ও তালতলীর ২৯৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
নিখোঁজ রয়েছে ৪৯ জন এবং আহত হয় ২৫০০ জন। ওই সময় সবচেয়ে বেশী প্রাণহানী ঘটেছিল তালতলীর বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী
নিদ্রারচর, সখিনা, আশারচর, জয়ালভাঙ্গা ও ফকিরহাট এলাকায়। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকা ও সচেতনার অভাবে হতাহতের সংখ্যা বেশী হয়েছে বলে এলাকার সচেতন মহল দাবি করেন।তালতলীর সোনাকাটা ইউপির মৎস্য ব্যবসায়ী মো.দুলাল মিয়া বলেন, আমাদের এলাকাটি সমুদ্রের খুব কাছাকাছি। কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় বন্যার সময় সকলে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারছে না। এ কারণে হতাহতের সংখ্যাও বেশী হয়।
তাই এখানে আরো আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সচেতন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার টুম্পা মুঠোফোনে বলেন, উপজেলার সকল সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশ্রাফুল আলম বলেন, হামুন মোকাবেলায় প্রস্তুতি হিসেবে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করেছি। উপজেলার সকল সাইক্লোন শেল্টারগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে । বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত শুকনা খাবারের মজুদ রাখার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি।

শেয়ার করুনঃ