
লক্ষ্মীপুর কমলনগরের জগবন্ধু উচ্চবিদ্যালয়ে পাঁচ পদে নিয়োগে লক্ষ, লক্ষ টাকা নিয়োগ বানিজ্যে ও স্বজনপ্রীতিসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
৫ ফেব্রুয়ারী সোমবার ২০২৪ ( সোমবার) অভিযোগকারীরা গণমাধ্যমের কাছে গত ১৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে দৈনিক “নয়াদিগন্ত ” পত্রিকায় বিদ্যালয়ের জন্য বিভিন্ন পদে প্রকাশিত নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে জানান। অভিযোগকারীরা অনিয়মের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্কুলে নিয়োগ বানিজ্যে ও স্বজনপ্রীতিসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে, তদন্ত করে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যোগ্যদের চাকরি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও হাবিবুর রহমান জানান, “পরীক্ষার আগেই সভাপতির মেয়ে ও শিক্ষকের ছেলে ভাগিনাকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়ার জন্যই প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি তাদের না জানিয়ে গোপনীয়ভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করেন। যদিও প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন দাবী করেন, নিয়ম অনুযায়ী তারা নিয়োগ বোর্ড গঠন করেছেন।
গোপনসূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে ,জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে নিয়োগ দানের পূর্বেই শিক্ষক -কর্মচারী নিয়োগ বোর্ড গঠনে অনিয়ম ও জালিয়াতিকরণ প্রসঙ্গে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।”
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক সমকাল, দৈনিক ইত্তেফাকসহ কয়েকটি পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হলে তৎক্ষনাৎ ঐ নিয়োগ স্থগিত করা হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান আরও বলেন, “নিয়োগ স্থগিতের কয়েকদিন পরে আমরা গোপন ভিত্তিতে জানতে পেরেছি, প্রধান শিক্ষক, সভাপতি এবং বিদ্যুৎসাহী সদস্য ফারুক হোসেন বাবুল ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা নিয়োগ বানিজ্যে করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে স্বজনপ্রীতিসহ তাদের পছন্দের প্রার্থীদেরকে চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা নিরুপায় হয়ে তাই আবারও গণমাধ্যমের মাধ্যমে সত্যকে তুলে ধরে এ ঘুষ বাণিজ্যের অনিয়মের নিয়োগটি বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের একান্ত সুদৃষ্টি কামনা করছি। ”
পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে আবেদনকারী ইকবাল হোসেন বলেন, ” নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদের রিয়াজকে পরীক্ষা হলে অসৎ উপায় অবলম্বন করার সময় হাতেনাতে ধরা হয়। সেই রিয়াজকে নিয়োগ কমিটি কীভাবে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দিয়েছে?
এবিষয়ে জানতে জগবন্ধু স্কুলে গেলে, অফিস সহায়ক পদে অনিয়মে সদ্য নিয়োগ পাওয়া আবির হোসেন, নিজেকে স্থানীয় একটি অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালের সম্পাদক দাবী করে তার পিতা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক জসিমের বক্তব্য রেকর্ড করতে খিটখিটে মেজাজে ডন স্টাইলে সাংবাদিকদেরকে বাঁধা প্রদান করেন।
অপরদিকে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেব,”নিয়োগ প্রক্রিয়া নীতিমালা অনুযায়ী হয়েছে এর বেশি কিছু আমি জানিনা। কোন বিষয়ে জানতে হলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করুন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।”
অভিযোগের বিষয়ে স্কুল সভাপতি গফুর কে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে সকল প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন।”
এবিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্র মুঠোফোনে জানান, ” নিয়োগ বানিজ্যে ও অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছে।”
এবিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলেন, নিয়োগের সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। ” মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর নিয়োগ সংক্রান্ত যে অভিযোগ দিয়েছে তার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ”
এবিষয়ে উপপরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম কে , ফোন দেওয়া হলে, ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য: বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবক সদস্য হাবিবুর রহমান ,জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর যে অভিযোগ দিয়েছিলেন, সেই অভিযোগ সূত্র থেকে জানা যায়, জগবন্ধু উচ্চবিদ্যালয়ে পাঁচটি পদে নিয়োগের লক্ষ্যে গত ১৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে জাতীয় দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পদগুলোর মধ্যে আয়া পদে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি গফুর সিকদারের মেয়ে নুরনাহার বেগমসহ তিনজন অফিস সহায়ক পদে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জশিম উদ্দিনের ছেলে আবির হোসেনসহ পাঁচজন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে বিদ্যালয়ের জ্যোষ্ঠ শিক্ষক এবিএম মঞ্জুর হোসেনের ভাগিনা রিয়াজ উদ্দিনসহ তিনজন, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে সাতজন এবং অফিস কাম-হিসাব সহকারী পদে ৯জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজশ করে সম্প্রতি কমিটির অন্য সদস্যদের না জানিয়ে গোপনীয়ভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করেন। এতে নিজেদের সন্তান প্রার্থী হওয়ার কারণে সভাপতির পরিবর্তে বিদ্যুৎসাহী সদস্য ফারুক হোসেন বাবুলকে রাখা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয় শিক্ষক এবিএম মঞ্জুর হোসেনকে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডর সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নীতিমালা অনুযায়ী জ্যোষ্ঠতম শিক্ষককেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিতে হয়। কিন্তু রফিকুল আলম ও মিনহাজ উদ্দিন নামে জ্যোষ্ঠ দুই শিক্ষককে রেখে তৃতীয় জ্যোষ্ঠতম শিক্ষক এবিএম মঞ্জুর হোসেনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এ নিয়োগ পরীক্ষায় তার ভাগিনাসহ প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের ছেলে ও সভাপতির মেয়ের চাকরি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যেই এ নিয়োগ বোর্ড করা হয়ছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে ।