
সীমান্ত থেকে ফিরে মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু,
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মিয়ানমারের সীমান্তের আশপাশের গ্রাম জলপাইতলী, বাজার পাড়ার এলাকার মানুষ এখন ও আতঙ্কে ঘর ছাড়া। ফাঁকা পড়ে আছে তুমব্রু বাজার,বেতবুনিয়া বাজার স্কুল ও মাদ্রাসা।
গত সোমবার রাত ৯টা থেকে আজ মঙ্গলবার এ রিপোর্ট লেখা কাল পর্যন্ত অনবরত গোলাগুলির শব্দ ও মর্টারশেলের বিকট সব্দে
আতঙ্কে ভয়ের মধ্যে রাত কাটিয়েছে এপারের বাসিন্দারা।
ওপারে মিয়ানমারের ঢেঁকুবুনিয়া সীমান্তচৌকি ঘিরে রাতভর গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার অন্তত ৮টি গ্রাম।
৬ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেল এসে পড়ে ঘুমধুম ইউনিয়নের মধ্যমপাড়া মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম এর বাড়ির পাশে। সেখানে ছৈয়দ নুর সিকদারের বাড়ির জানালার কিছু অংশ ফেটে গেছে। এতে কোন হতাহত হয়নি বলে জানালেন ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ ভুট্টো।
তিনি আরো বলেন
প্রতিদিনের মতো আজও কোন মানুষ কাজকর্মে বের হয়নি দোকানপাট বন্ধ থাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ও নিতে পারছে না স্থানীয়রা। এছাড়াও বিকেলে রাইফেলের গুলিতে তুমব্রু কোনার পাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ আহমদ (৪০) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তার মাথায় গুলি পড়ে রক্তাক্ত হয়। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত রয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘুমধুমের মধ্যমপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামে কয়েকজন পুরুষ ছাড়া কেউ নেই। নারী-শিশুরা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্রে অবস্থান নিয়েছে। সবার মধ্যে গোলাবারুদের ভয় কাজ করছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ওপারে মিয়ানমারের ঢেঁকুবুনিয়া সীমান্ত চৌকি দখলকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ) ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে গোলাগুলি ও মর্টারশেলের গোলা বিস্ফোরন ঘটেছে।
যার ফলে আতঙ্ক বেড়ে যায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে।
বেতবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেনএখন যতটুকু ভয় পাচ্ছে মানুষ, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও এত ভয় পায় নাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন সোমবার দিবাগত রাতে সংঘর্ষ চলাকালে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অন্তত ৩৫ জন সদস্যকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেখা গেছে। তাঁদের ঘুমধুম তুমব্রু বিওপি ক্যাম্পে হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এছাড়া ও অস্ত্র জমা দিয়ে আরো ১১৪ জন বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য বিজিবির কাছে আশ্রয় নিয়েছে বলে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়।
অপরদিকে সীমান্তের উদ্বেগ জনক পরিস্থিতিতে বিজিবি, পুলিশের টহল জোরদার করেছে।
অপরদিকে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক মুজাহিদ উদ্দিন ও পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন। জেলা প্রশাসক সীমান্তের পার্শবর্তী গ্রামের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছন। উত্তর ঘুমধুম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষনা করা হয়েছে।
এপর্যন্ত ২৯৯ জন মিয়ানমারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য বাংলাদেশ বিজিবর ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েেছে বলে নির্ভর যোগ্য সুত্র থেকে জানা যায়। এদের মধ্যে ১৫ জন গুরুতর আহত রয়েছ। এদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবর গণসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম।