ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
যৌথবাহিনীর অভিযানে সাতদিনে গ্রেফতার ৩৪১
এসো আমরা ঈদের আনন্দের সাথে নিজেরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করি-ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান সালেহী
কলাপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় গ্রেফতার ৭
নওগাঁয় ধানখেতে গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মুলহোতা গ্রেপ্তার
নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি কন্যা পর্যটন লেকে ঈদে ১৬ বছরের রেকর্ড পর্যটকের ঢল
বাঁশখালীতে টানা ৪১ দিন জামাতে নামাজ আদায় করা ১৭ শিশু-কিশোর সাইকেল উপহার
আত্রাইয়ে ঈদের চতুর্থ দিনেও সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গ্রেফতার
কলমাকান্দায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার পলাতক অলি আহমেদ
নেত্রকোণা সরকারী কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
ভারতীয় মিডিয়া গুজবে চ্যাম্পিয়ন:স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জিয়ার শ্রদ্ধা স্মারক সরিয়ে ফেলার অপকর্মে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন:জাসাস
কালিগঞ্জে প্রত্যয় গ্রুপের ১৩ তম বর্ষপূর্তি ও ঈদ পুনমিলনী 
পরকীয়া জেরে যুবকের আত্মহত্যা
আমতলীতে তরমুজ পরিবহনে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত- ৬

তুমব্রু সীমান্ত উত্তপ্ত, বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয় নিলো আরো ৩৭ জন বিজিপি সদস্য

বাংলাদেশ মায়ানমার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু রাইট ক্যাম্প ও ডেকুবুনিয়া ক্যাম্পে রাতভর ব্যাপক গুলি বিনিময় ও বোমা বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বিদ্রোহী গ্রুপ আরকান আর্মি ও মিয়ানমারের সরকারী বাহিনীর সাথে।রাত ১টা ২৫ মিনিটে সীমান্তের অদূরে মিয়ানমারের যুদ্ধ বিমান আকাশে চক্কর দিতে দেখা গেছে।

রাতভর মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপির) আরো ৩৭ জন সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে তুমব্রু বিওপি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদেরকে নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৯৮ জন বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারী বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে সীমান্ত সড়ক ঘুমধুমে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার বিজিবির রিজিওন কমন্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ মোরশেদ আলম। তিনি আরো বলেন আশ্রয় নেওয়া ৯৮ জন বিজিপি সদস্যদের নিরস্ত্রীকরণ করে থাকা খাওয়া চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিগ্রই তাদের সে দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং আজকে মর্টারশেলের আঘাতে নিহতদের বিষয়ে লিখিত আকারে মিয়ানমারে প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে।এছাড়াও সীমান্ত পথ ব্যবহার করে আরো কয়েক শত বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সুত্র গুলু।

এদিকে চলমান সংঘর্ষে তুমব্রু জলপাই তলী গ্রামে সোমবার ৫ ফেব্রুয়ারি ২ টা ২০ মিনিটের সময় মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে ২ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে এবং একজন শিশু আহত হয়েছে।
নিহতদের মাঝে একজন বাংলাদেশী ও অপরজন রোহিঙ্গা নাগরিক। নিহত বাংলাদেশী হল গৃহবধূ হোছনে আরা (৪২)স্বামী, বাদশাহ সওদাগর, গ্রাম জলপাইতলী, তুমব্রু-ঘুমধম এলাকার বাসিন্দা। অপর জন, রোহিঙ্গা নাগরিক নবী হোছন (৭০)পিতা মৃত দুলু হোসেন, রোহিংগা ক্যাম্প বি -৭৩। আহত হলো ২ বছরের শিশু হুবায়েব , পিতা শফিউল আলম জলপাইতলী তুমব্রু এলাকার বাসিন্দা।এছাড়া ও তুমব্রু পশ্চিম কুল এলাকায় বসতবাড়ি ও ঘোনার পাড়ায় ২টি মর্টারশেলের গোলা এসে পড়ে বিস্ফোরিত হয়ে ঘর ভেংগে যায়। তবে এতে কোন ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলামসহ অনকে জানান।বর্তমানে সীমান্তের কোনার পাড়া, মাঝের পাড়া, বাজার পাড়াসহ ৫ গ্রাম জন মানব শূন্য। কোনার পাড়ার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ জানান ঘরের কোন জিনিসপত্র তারা নিয়ে আসতে পারে নি, থেমে থেমে গোলা বর্ষন অব্যাহত আছে।

রাতভর তীব্র গোলাগুলির চলমান থাকায় জনমনে আতঙ্কের কারনে যে যার মতো নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন বলে জানান ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দিল মোহাম্মদ ভুট্টো।

জিরো লাইনে গুলির খোসা ও মর্টার শেল পড়ে আছে উল্লেখ করে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, আমার ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি, ভাজাবুনিয়া সীমান্ত পয়েন্টের বাসিন্দারা এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন।চলমান অস্থিরতায় ঘুমধুম সীমান্তের ছয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন।

এছাড়াও সিমান্তে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসন।তিনি জানান সীমান্ত ঘেষা গ্রামের লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে আমাদের আশ্রয় কেন্দ্র গুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে,তবে বেশিরভাগ আতংকিত মানুষ তাদের নিজ নিজ আত্বিয়ের বাসায় চলে গিয়েছে বলে জেনেছি।জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে বলে সোমবার তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।অপরদিকে টেকনাফের হোওয়াক্ষং সীমান্তের উলু বনিয়া দেয়ে প্রবেশ কালে এক রোহিঙ্গা পরিবারকে আটক করেছ বিজিবি।

উল্লেখ্য গতকাল নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ব হয়ে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে ৩ জন বাংলাদেশি।আহতরা হলেন, কোনার পাড়ার বাসিন্দা প্রবীন্দ্র ধর (৫০)। পিতা জোতিষ্ট ধর,রহিমা বেগম( ৪০) এবং শামশুল আলম।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মিয়ানমারের সঙ্গে থাকা গোটা সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। কক্সবাজার ও বান্দরবান পুলিশকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।এদিকে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও টহল জোরদার করছে বিজিবি পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা।সীমান্তের জলপাইতলী গ্রামে র‍্যাব ১৫ মিড়িয়া উইং এর সহকারী পুলিশ সুপার এক সংবাদ ব্রিফিং এ জানান, পুলিশ বিজিবির পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারের জন্য র‍্যাবের টহল অব্যাহত থাকবে।
এই রিপোর্ট লিখা ও পাঠানো পর্যন্ত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও বিদ্রোহী গ্রুপ আরকান আর্মির সদস্যরা তুমব্রু রাইট ক্যাম্প পুর্ন নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার পর এবার ঘুমধুম সীমান্তের ঢেকুবুনিয়া দখলের জন্য চতুর্পাশে ঘেরাও করে রেখেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।অপরদিকে আরকান বিদ্রোহী গ্রুপ ও সে দেশের সরকারি বাহিনীর সাথে গুলাগুলিতে জান্তা সরকারের শতাধিক সেনার মৃত্যু ঘটেছে বলে সীমান্তের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একব্যক্তি জানান। এছাড়া আরকান বিদ্রোহী গ্রুপের অর্ধশতাধিক গুরতর আহত হয়েছে বলে জানা যায়।

শেয়ার করুনঃ