
ময়মনসিংহের নান্দাইলে গত চার মাস যাবত এসিল্যান্ড তথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভু‚মি) না থাকায় জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উপজেলা ভুমি অফিসে নামজারি, ভ‚মি উন্নয়নকর ও নানাবিধ কার্যক্রম সহ বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা না করায় একদিকে যেমন ভুমি অফিসে জমি খারিজ করতে সমস্যা হচ্ছে, তেমনি উপজেলার পৌর সদর সহ বিভিন্ন হাট-বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য অতিরিক্ত দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রী হচ্ছে।পাশাপাশি বাজারগুলোতে দেদারসে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার। এ যেন দেখার কেউ নেই।
উপজেলা ভুমি অফিস কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর ২০২৩ইং নান্দাইল উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) আরিফ হোসেন নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলায় বদলী হওয়ার পর থেকে এসিল্যান্ড পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুণ কৃষ্ণ পাল উপজেলা ভুমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। এসিল্যান্ড না থাকায় ভুমি অফিসে সেবা নিতে এসে বিপাকে পড়ছে সাধারণ জনগণ। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে একটি বড় দায়িত্ব পালনের পরে আরেকটি দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা জটিল ব্যাপার বলে জানিয়েছেন সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রশাসনিক বিভিন্ন মিটিং সহ বিভিন্ন দপ্তরের কাজ একাই সামলাতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী
জানান, একজন এসিল্যান্ডকে প্রতিদিন নামজারি, খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদান, ভুমি উন্নয়ন কর আদায় সহ নানা ধরনের কাজ করতে হয়। সাধারণত এসব কাজ এসিল্যান্ড দ্রুতগতিতে করে
থাকেন। কিন্তু তিনি না থাকায় এসব কাজ ধীরগতিতে হচ্ছে। ফলে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। উপজেলা ভ‚মি অফিসে সেবা নিতে আসা লূৎফর রহমান বলেন, দূর থেকে এসে যখন দেখি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা নেই, তখনতো বেশ জটিলতায় পড়তে হয়। এমনকি বেশ কিছুদিন ঘুরার পরে সেবাটি গ্রহন করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুণ কৃষ্ণ পাল বলেন, এসিল্যান্ড না থাকায় যে অফিসের কার্যক্রমে ধীরগতি এটার কোন ভিত্তি নাই। তবে নিয়মিতই কাজ হচ্ছে। এছাড়া এসিল্যান্ডের শূন্য পদটি পূরণের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই এর ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।