ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
এসো আমরা ঈদের আনন্দের সাথে নিজেরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করি-ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান সালেহী
কলাপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় গ্রেফতার ৭
নওগাঁয় ধানখেতে গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মুলহোতা গ্রেপ্তার
নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি কন্যা পর্যটন লেকে ঈদে ১৬ বছরের রেকর্ড পর্যটকের ঢল
বাঁশখালীতে টানা ৪১ দিন জামাতে নামাজ আদায় করা ১৭ শিশু-কিশোর সাইকেল উপহার
আত্রাইয়ে ঈদের চতুর্থ দিনেও সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গ্রেফতার
কলমাকান্দায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার পলাতক অলি আহমেদ
নেত্রকোণা সরকারী কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
ভারতীয় মিডিয়া গুজবে চ্যাম্পিয়ন:স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জিয়ার শ্রদ্ধা স্মারক সরিয়ে ফেলার অপকর্মে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন:জাসাস
কালিগঞ্জে প্রত্যয় গ্রুপের ১৩ তম বর্ষপূর্তি ও ঈদ পুনমিলনী 
পরকীয়া জেরে যুবকের আত্মহত্যা
আমতলীতে তরমুজ পরিবহনে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত- ৬
আমতলীতে বাস ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত দুই

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি: বগুড়া, নওগাঁ ও জয়পুরহাটে ৩৯ জন আটক, বহিস্কার ৬ জন

ডেস্ক রিপোর্ট : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করার অভিযোগে বগুড়া, নওগাঁ ও জয়পুরহাটে ৩৯ জনকে আটক করা হয়েছে। ৬ জনকে বহিস্কার ও ২ জনের অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) পরীক্ষার সময় বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮ টা পর্যন্ত তাদের সবার নাম জানায়নি। তবে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

তারা হলেন, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাজাপুর এলাকার মৃত আকবর আলীর ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন (২৮), সোনাতলা উপজেলার জোরগাছা এলাকার আকবর আলীর ছেলে মোঃ আসাদুজ্জামান ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার কুড়াহার এলাকার মোঃ আছিম আলীর ছেলে মোঃ জাকিরুল ইসলাম (৩০)।

জানা গেছে, পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ও কানে ছোট ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় তাদের সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেন কক্ষ পরিদর্শক মোঃ আবু সুফিয়ান শিক্ষক মাধ্যমিক শাখা বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। এসময় তাদেরকে কর্তব্যরত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোছাঃ আফসানা ইয়াসমিনের উপস্থিতিতে দেহ তল্লাশি করে আনোয়ার ও আসাদুজ্জামানের কানে ও হাতে ডিভাইস এবং জাকিরুলের হাতে পরিহিত পোশাকের ভিতর মোবাইল পাওয়া যায়। এডিসির নির্দেশে ওই ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই তিনজনসহ জেলায় মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বগুড়া শহরের ৩৭টি কেন্দ্রে একসাথে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে আটক পরীক্ষার্থীরা গোপনে মোবাইল ফোন কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

তারা প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠায়। এরপর বাইরে থেকে উত্তর তৈরি করে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের কানে ব্যবহার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাহায্যে উত্তরপত্র পূরণ করার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ২২ জনকে আটক করেন।

আটকদের মধ্যে এপিবিন পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে ১ জন, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে ৪ জন, বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩ জন, বগুড়া সিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন, পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১ জন, বগুড়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে ১ জন, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ থেকে ১ জন, বগুড়া সরকারি কলেজ থেকে ১ জন এবং বগুড়া পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ৪ জন রয়েছেন৷

এছাড়া শাজাহানপুর উপজেলা থেকে ৩জনকে আটক করা হয়েছে। বহিস্কার করা হয়েছে ৬জনকে। করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে ১জন, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে ৪জন এবং সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ থেকে ১জনকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুজ্জামান বলেন, আটককৃতদের নামে পাবলিক পরীক্ষা আইনে পৃথক ১০টি মামলা দায়ের করা হবে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনজন নারী পরীক্ষার্থীকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বগুড়ায় এবার ৩৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩২ হাজার ১৭৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২৩ হাজার ৫৬৫ জন। অপরদিকে জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি জানান, জয়পুরহাটে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার সময় তিন জন পরিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার সদর উপজেলার ৩টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত পরিক্ষার্থীরা হলেন জেলার পাঁচবিবি উপজেলার তাজপুর গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে মোস্তাকিম হোসেন, বাঁশখুর গ্রামের মাজেদের ছেলে মাহমুদুল হাসান, আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান লিয়নের মেয়ে সানজিদা বেগম।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন শহরের তিনটি কেন্দ্রে আটককৃত পরিক্ষার্থীরা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহারসহ অসদুপায় অবলম্বন করে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরে পরিক্ষা কেন্দ্রে থাকা শিক্ষকরা পরীক্ষার শেষ দিকে বুঝতে পেরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, খঞ্জনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও সিদ্দিকিয়া কামিল মডেল মাদ্রাসা এই তিন কেন্দ্র থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান। এর পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো ২ জনকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পরীক্ষা চলাকালে তাদের দন্ড প্রদান করা হয়। পরে বিকেল ৪টায় মিডিয়া সেলে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক গোলাম মওলা।

মিডিয়া সেলে বলা হয় নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে মান্দা উপজেলার মমিন শাহানা সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তিনজন চাকরি প্রত্যাশীর কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। এ অপরাধে পরীক্ষার্থী মিঠুনকে ও সুলতানকে ১ মাস এবং রবিউল ইসলামকে ১০ দিন বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। একই উপজেলার শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল কেন্দ্র থেকে আটক নাইমুর রহমান ও মোস্তাফিজুর বিন আমিনকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও মান্দা থানা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আরো ৫ জনকে আটক করা হয়। যেখানে জারজিস আলমকে ১০ দিন, ফজলে রাব্বি মন্ডলকে ১ মাস, নুর আলমকে ৭ দিন, জামাল উদ্দিনকে ১০ দিন এবং আব্দুল্লাহ সাইরাফিকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার বশির উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ (বিএমসি) কেন্দ্রে দুইজনকে ৫শ’ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও সদর উপজেলার চকএনায়েত উচ্চ বিদ্যালয় এবং পাহাড়পুর জিএম হাইস্কুল কেন্দ্রে ১ জন করে মোট দুইজনকে ১০ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলায় একজনকে ১৫ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বদলগাছী উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দের পর তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুনঃ