
ডেস্ক রিপোর্ট : রায়পুরে মহাশ্মশানে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব চাকমা স্বাক্ষরিত পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর মহাশ্মশানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে। শ্মশান কমিটির লোকজন বিষয়টি জানলেও দিনভর তারা এ নিয়ে গোপনীয়তা অবলম্বন করেছেন। নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বৈঠকও করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি জানাজানি হয়। ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি সন্মিলিত সামাজিক আন্দোলন সভাপতি অধ্যাপক ড, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস এবং সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ এর দৃষ্টি গোচর হওয়ায় এক বিবৃতিতে তারা লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার পৌরমহাশ্মশানে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী ইতোমধ্যে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত শ্মশান পরিদর্শন করেন। আমরা মনেকরি এই ধরনের হীনকর কর্মের সাথে একশ্রেণীর দুষ্ট চক্র ঠুনকো অজুহাতে সংখ্যালঘু ও সমাজের দূর্বল মানুষদের উপর নিপীড়ন চালিয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। রায়পুরের ঘটনাটি তারই অংশ বলেই আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমরা অনতিবিলম্বে পৌর মহাশ্মশানে হামলার সাথে জড়িতদের কঠোর হস্তে দমনের আহবান জানাই এবং ক্ষতিগ্রস্ত মহাশ্মশানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর মহাশ্মশানে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। শ্মশানে তত্ত্বাবধায়ক হরেন্দ্র চন্দ্র কুরী বলেন, প্রতিদিনের মতো সোমবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ৮টার সময় শ্মশানের ফটক বন্ধ করে আমি চলে যাই। পরদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এসে পুড়ে যাওয়া অফিস ও কালি প্রতিমা দেখতে পাই। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ফার্নিচার ভাঙচুর ও গাছপালাও কেটে ফেলে। পরে বিষয়টি আমি কমিটির লোকজনকে জানাই। শ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার উত্তম কুমার রায় বলেন, দুপুরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। কমিটির সবাইকে নিয়ে বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় ঘটনার খবর প্রশাসনকে জানাতে সন্ধ্যার পর হয়ে যায়। লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ পিপিএম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আশা করি, দ্রুত প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।