
ডেস্ক রিপোর্ট : পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই আপন মামা, মামি ও মামাতো ছোট বোনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে রাজীব ভৌমিক। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার মূল আসামি রাজীব কুমার ভৌমিককে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল। পুলিশ সুপার জানান, পাওনা ৩৫ লাখ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই আপন মামা, মামি ও মামাতো ছোট বোনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে নৃশংস ভাবে হত্যা করেন রাজীব ভৌমিক। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার মূল আসামি রাজীব কুমার ভৌমিক গ্রেফতারের পর পুলিশকে এই তথ্য দেয়।
তিনি আরও জানান, ২০২১ সাল থেকে মামা বিকাশ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে খাদ্যশস্য কেনাবেচার ব্যবসায় যুক্ত হয় ভাগ্নে রাজীব ভৌমিক। নিহত বিকাশ সরকার তার ভাগ্নে রাজীবকে ব্যবসার পূঁজি হিসেবে ২০ লাখ টাকা দেন। ব্যবসা চলমান থাকা অবস্থায় রাজীব তার মামাকে বিভিন্ন ধাপে ব্যবসার লভ্যাংশসহ প্রায় ২৬ লাখ টাকা ফেরত দেন। চলতি বছরে এসে রাজীবের কাছে মামা আরও ৩৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
গত ২২ জানুয়ারি সকালে ভাগ্নের বাড়িতে গিয়ে বিকাশ চন্দ্র ৭/৮ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেন এবং তার মাকে বকাবকি করেন। রাজীব টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হওয়ায় পাশাপাশি মামার বকাবকিতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামাসহ পুরো পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এক পর্যায়ে ২৭ জানুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় মামাকে ফোন করে পাওনা টাকা দিতে তাড়াশ বারোয়ারি বটতলা মামার বাসায় আসে। এসময় মামা বাইরে থাকায় মামি ভাগ্নেকে আপ্যায়ন করার জন্য কফি আনতে বাসার নিচে দোকানে গেলে রাজীব তার ব্যাগে থাকা লোহার রড দিয়ে তার মামাতো বোন দশম শ্রেণির ছাত্রী পারমিতা সরকারের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে পরে হাঁসুয়া দিয়ে গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে কফি কিনে বাসায় প্রবেশ করলে একই ভাবে মামি স্বর্ণা সরকারকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং গলাকেটে হত্যা করে। এর কিছুক্ষণ পর মামা বিকাশ সরকার বাড়িতে এলে একই ভাবে রড দিয়ে পিটিয়ে এবং গলাকেটে তাতেও হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়িতে চলে যান। যাবার পথে হত্যায় ব্যবহৃত লোহার রডটি একটি পুকুরে ফেলে যান আর হাঁসুয়াটি বাড়িতে নিয়ে যান।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে নিহত স্বর্ণা সরকারের ভাই সুকমল সাহাবাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি দিয়ে তাড়াশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের রাতেই নিহত বিকাশের ফোনে অডিও রেকর্ডের সূত্র ধরে ভাগ্নে রাজীবকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার আসামি নিজের সম্পৃক্ততাসহ ঘটনার বিষয়ে লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। পরে পুলিশ তাকে নিয়ে ৬ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত হাঁসুয়া এবং লোহার রড উদ্ধার করে। গ্রেফতার রাজীব উল্লাপাড়া উপজেলার তেলিপাড়ার বাসিন্দা। তিনি নিহত বিকাশের বড় বোন প্রমিলা সরকারের ছেলে। বুধবার বিকেলে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলেও জানান পুলিশ সুপার।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে নিজ বাড়ির তিন তলা ফ্লাটে থেকে মা, মেয়ে ও বাবার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।