
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার ৪ নং আটঘর কুরিয়ানা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক শেখর কুমার সিকদার হত্যা মামলায় ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী যুবায়ের আলম।
এদিকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদারের স্ত্রী মালা রানী মণ্ডল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন।
সেখানে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুন হালদাকে প্রধান করে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান এসপি।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে শংকর সরকার, বাবুল হাওলাদার, তাপস মজুমদার ও স্বাধীন হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে র্যাব-৮ বাগেরহাটের মোল্লার হাট এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার (৪৪), তার ছোট ভাই সুষময় হালদার (১৮), একই ইউনিয়নের মুসলিম পাড়া গ্রামের জালিস মাহমুদ (২৪) ও সংগীতকাঠি এলাকার আমিনুল ইসলাম (২৩)।
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী যুবায়ের আলম বলেন, “মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুড়িয়ানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদানের উদ্দেশে রওনা দেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার।”
“তিনি কুড়িয়ানা বাজারের কাছে পৌঁছালে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুন হালদারের নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন শেখর কুমার সিকদারের পথরোধ করে। পরে তারা লাঠি ও ইট দিয়ে পিটিয়ে শেখরকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। ”
তিনি বলেন, “পরে তাকে উদ্ধার করে স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে এবং মিঠুন হালদারের সঙ্গে শেখর কুমার সিকদারের বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি।
অধিনায়ক বলেন, “হত্যার পর পর আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার ভোরে বাগেরহাটের মোল্লার হাট এলাকায় থেকে হত্যা মামলার নামধারী দুইজনসহ অজ্ঞাত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
আসামিদের নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।