
ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাম্বলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। অদৃশ্য হচ্ছে দুর্গাপূজার প্রতিমা, দেখতে উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভীড়।
এ উপলক্ষ্যে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ৩নং খাঁনপুর ইউনিয়নের মৌপুকুর গ্রামে সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে আনুমানিক ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দুর্গাপূজার প্রতিমা।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ঐ পূজা মন্ডপে দেখা যায়, প্রতিমা মাঝে মধ্যেই অর্দৃশ্য হয়ে যাচ্ছে দেখতে উৎসুক জনতার ভীড়। অদৃশ্য প্রতিমাগুলোর মধ্যে রয়েছে মহিশাশুড়, ভ্রম্মা, মহাকালী, দূর্গা, সেনাপতি।
প্রতিমা অর্দৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, এটি দেখানোর জন্য প্রতিমা দিয়ে এ থিম সাজানো হয়েছে। থিমটি যেভাবে চলছে। থিমের প্রথমেই আসছে মহিশাশুড় তার অমর্ত্য নেওয়ার জন্য ভ্রম্মার কাছে বর চাইতে। তারপর আসছে ভ্রম্মা, আবার আসতেছে মহিশাশুড় ভ্রম্মার থেকে বর পাওয়ার পর সর্গ দখল করার জন্য। তখন দেবতার সঙ্গে যুদ্ধ লাগার কারণে মহাকালী আর্বিভাব হয়ে অশুড় কে বদ করছে। এভাবেই সাজানো হয়েছে এই অর্দৃশ্য হওয়া থিমটি। প্রতিমাগুলো একে একে আসছে এবং চোখের পলকেই অদৃশ্য হয়ে চলে যাচ্ছে।
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থেকে দেখতে আসা সম্প রায় বলেন, আমি সকাল থেকে বেশ কয়েকটি মন্দিরে ঘুরেছি। সবগুলোর মধ্যে এই মন্দিরের দৃশ্যটি আমাকে খুব ভালো লেগেছে।
র্পাবতীপুর থেকে আসা ঐশ্বী কুন্ডু বলেন, গতকালকে শুনেছি বিরামপুরে মৌপুকুর গ্রামে গত বছরের থেকে এ বছর অনেক বড় পরিসরে দূর্গাপুজার প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। শুনেছি মাঝে মাঝেই নাকি কিছু প্রতিমা অর্দৃশ্য হচ্ছে। এখানে এসে আমাকে খুবই ভালো লেগেছে । প্রতিমার সাহায্যে যে দৃশ্যটি সাজানো হয়েছে এটি খুব সুন্দর হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রীতা মন্ডল বলেন, আমাদের গ্রাম এলাকায়ও যে এত মানুষের সমাগম হবে জানতাম না। পূজা শুরু হওয়ার পর থেকেই শতশত মানুষের উপচে পড়া ভীড়। স্থানীয় ভাবে আমি খুবই খুশি।
মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী সঞ্জিত মন্ডল জানান, প্রতিমা অর্দৃশ্য এটি আমাদের একটি থিম । এই অর্দৃশ্য থিমটি সাজানো হয়েছে। মটর ও রশি কারেন্টের সাহায্যে। থিমটি পরিচালনা করার জন্য লোক রাখা আছে। মিউজিকের সঙ্গে মিল রেখে এটি পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের পূজা অর্চনা করার জন্য আলাদা ভাবে দূর্গা ঠাকুর আছে। আমাদের প্রতিমা অর্দৃশ্যের যে থিমটি করা হয়েছে, এটি দেখানোর জন্য সাজানো হয়েছে।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুজহাত তাসনীম অওন বলেন, মন্দিরটি পরির্দশনে গিয়েছিলাম। অদৃশ্য হওয়ার থিমটি খুবই সুন্দর ও চমকপ্রদত হওয়ায় এটি দেখতে খুব ভালো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার প্রতিটি মন্দিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।