
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিদ্যুৎ চালিত সেচ প্রকল্পের গভীর নলকূপের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের পশ্চিম দিকে সরাইল-পানিশ্বর সড়কের পাশের চান্দেরী হাওড় নামক এলাকায় বিদ্যুৎ চালিত সেচ প্রকল্পের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে যায়।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল ঘুরে ও ভুক্তভোগী কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেচ প্রকল্পটির আওতায় দুই থেকে তিনশত ফসলি জমি হাল চাষ করা রয়েছে। আসন্ন ইরি মৌসুমের এই সময়ে কৃষকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন সেচ প্রকল্পটির পানির মাধ্যমে কৃষকগণ ফসলি জমিগুলোতে ইরি ধান রোপণ করবেন। গত শুক্রবার থেকে কৃষকদের চাষাবাদকৃত জমিতে পানি সেচের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের অংশ হিসেবে সেচ প্রকল্পটির জন্য বরাদ্ধকৃত বৈদ্যুতিক ট্রাসমিটারটি গত বৃহস্পতিবার সেখানে নিয়ে আসেন প্রকল্পের মালিক বাচ্ছু মিয়া।
বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারটি সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যূৎ চালিত গভীর নলকূপটি পরদিন শুক্রবার চালু করে কৃষকদের চাষাবাদকৃত জমিতে পানি নিষ্কাশনের কথা থাকলেও একই দিন দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা ট্রান্সমিটারটি চুরি করে নিয়ে যায়। এ খবরে শত শত কৃষক এখন হতাশাগ্রস্থ ও দিশেহারা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষক জাকির হোসেন বলেন, আমি এই সেচ প্রকল্পের আওতায় ১০ কানি জমি চাষাবাদ করে ধানের চারা রোপণের জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আমার মত এমন শত শত কৃষক জমি চাষাবাদ করে ধানের চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। গত শুক্রবার থেকে চাষাবাদকৃত জমিগুলোতে পানি নিষ্কাশনের কথা থাকলেও হঠাৎ করে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারটি চুরি হয়ে যাওয়ায় আমরা হতাশাগ্রস্থ। টান্সমিটার ছাড়া সেচ প্রকল্পের গভীর নলকূপ চালু করা সম্ভব না হওয়ায় পানির অভাবে আমাদের শত শত কৃষকের চাষাবাদকৃত শত শত জমি নিয়ে এখন আমরা হতাশাগ্রস্থ। কখন বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার আবার আসবে আর কখন পানি পেয়ে জমিতে ফসল আবাদ করব এ নিয়েও আমরা চিন্তিত।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আমার আকুল আবেদন, কৃষক বাচাঁতে এই সেচ প্রকল্পে দ্রুত একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার যুক্ত করে সেচ প্রকল্পটি চালু করার মাধ্যমে কৃষকদের যেন ফসলি জমি চাষাবাদ করার ব্যবস্থা করা হয়। একই সাথে যারা ট্রান্সমিটারটি চুরি করেছে তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করেন।
এ ব্যাপারে সেচ প্রকল্পটির মালিক বাচ্ছু মিয়া বলেন, ইরি মৌসুমের কৃষকদের ফসলি জমিতে গত শুক্রবার থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সেচ প্রকল্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারটির ভেতরের অংশ দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে যায়। এতে করে সেচ প্রকল্পের পানি নিষ্কাশনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শত শত কৃষক তাদের চাষাবাদকৃত শত শত কৃষি জমিতে পানির অভাবে ধানের চারা রোপণে বিপাকে পড়েছে। তিনি আরও বলেন বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারটি চুরির ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতেছি। এছাড়া নতুন করে এখানে ট্রান্সমিটার এনে সেচ প্রকল্পটি চালু করার চেষ্টাও করতেছি।