ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
কুয়াকাটা সৈকত দখল করে ঝুকিপূর্ণ মার্কেট নির্মানের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে ২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কেমন কুড়িগ্রাম দেখতে চাই শীর্ষক মতবিনিময় সভা
বোদায় ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
সরাইলে অভিযানে ৩ হত্যা মামলার আসামীসহ গ্রেফতার ৯
বাগমারায় চুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু:ঘাতকে পিটিয়ে হত্যা করলো উত্তেজিত জনতা
নড়াইলে বিএনপি নেতা সান্টুর উপর ককটেল হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ
লাখো পর্যটকের সমাগম কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। শতভাগ হোটেল মোটেল বুকিং
আমতলীতে কুপিয়ে স্ত্রীর হাত কর্তন করলেন নেশাগ্রস্থ স্বামী
হোমনায় যুবকের ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে মোদির সঙ্গে কথা বললেন ড. ইউনূস
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
ঈদ পরবর্তী বিআরটিএর বিশেষ অভিযান: ৬ লাখ ৮৭ হাজার জরিমানা,২৮৯ মামলা
রায়পুরে আ’লীগ বিএনপির যৌথ হামলায় নারীসহ আহত ৫
পাঁচবিবিতে শিক্ষার্থী সমিতির স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের হীরক জয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমানদের মিলন মেলা

ডেস্ক রিপোর্ট : বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের হীরক জয়ন্তী (৬০ বছর) পূর্তি উপলক্ষে স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন, কলেজ এ্যাওয়ার্ড প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আজ রোববার (২৮ জানুয়ারি) কলেজ চত্বরে বর্ণাঢ্য এই আয়োজন যেন হয়ে উঠেছিল কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। কলেজের ইতিহাসে প্রথম স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন উপলক্ষে এসেছিলেন কলেজের সাবেক বেশ ক’জন অধ্যক্ষ, প্রবীণ শিক্ষক, কলেজের এবং প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী। সকালে কলেজ চত্বরে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জোহরা ওয়াহিদা রহমান। এর পরপরই শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

অধ্যক্ষ প্রফেসর জোহরা ওয়াহিদা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা বেগম, সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খোন্দকার কামাল হাসান, কলেজের সাবেক শিক্ষক ও টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডঃ হোসনে আরা বেগম, দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য শংকর, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং স্মারকগ্রন্থের সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. বেল্লাল হোসেন, সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ছালামত উল্লাহ, পাইওনিয়ার ফিলিট্রেশনের চেয়ারম্যান এবং ওই কলেজের ভূমিদাতা পরিবারের সন্তান তৌফিকুর রহমান বাপ্পী ভান্ডারী, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শামীমা শাহ সুমি।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪-এপিবিএন বগুড়ার অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আব্দুর রাজ্জাক, ওই কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নাসিমা আকতার জাহান, নাসিমা আকতারসহ সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এই অঞ্চলের নারী শিক্ষার অন্যতম ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠ। ষাটের দশকে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত না হলে অনেক নারীর মাধ্যমিক পাশের পর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যেত।

এই কলেজ হওয়ায় শুধু বগুড়া নয় আশে-পাশের জেলাগুলোর নারী শিক্ষাও বেগবান হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানটি আজ হীরক জয়ন্তী উপলক্ষে স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন করছে। এতে এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মান আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল। তারা বলেন, স্মারকগ্রন্থ একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ভিত্তিক একটি অনন্য কাজ। ওই গ্রন্থে অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধনের যোগসূত্র প্রকাশ পায়।

স্মারকগ্রন্থের সম্পাদক কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. বেল্লাল হোসেন স্মারকগ্রন্থ সম্পর্কে বলেন, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় দেড় শতাধিক সরকারি কলেজ রয়েছে। এরমধ্যে বেশকিছু কলেজ রয়েছে বেশ নামকরা। সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজসহ এরমধ্যে থেকে মাত্র ৪টি কলেজ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। রাজশাহী কলেজ, রংপুরের কারমাইকেল কলেজ, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ এবং এই কলেজ। স্মারকগ্রন্থ হচ্ছে ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্তের সংমিশ্রণে ডকুমেন্ট ভিত্তিক উপাস্থাপনা।

তিনি বলেন, এই কলেজটি ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কলেজ পাক বাহিনীরা তাদের ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করে। সে সময় তারা কলেজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ফেলে। কিছু কাগজ তারা রান্নার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে।

তাই মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ের অনেক নথিই আমরা পাইনি। বর্তমান অধ্যক্ষ জোহরা ওয়াহিদা রহমানের আন্তরিক সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময় এবং পরবর্তী সময়ের যেটুকু তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে তার সবই এই স্মরকগ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। একটি স্মারকগ্রন্থ রচনা করতে কয়েক বছর লেগে যায়। কিন্ত মাত্র চার মাসের প্রচেষ্টায় আমরা এই কলেজের স্মারকগ্রন্থটি মলাটবদ্ধ করেছি।

এরপর শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এর আগে কলেজের স্ব স্ব জায়গায় বিশেষ অবদানের জন্য কলেজের দু’জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে ‘কলেজ এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এবার যাদের এ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে তারা হলেন শিক্ষকতা ও সমাজসেবায় বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং ওই কলেজের ১৯৬৩-৬৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী রওশন আরা বেগম রানী।

এছাড়া কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী পীরব ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সালেহা বেগমকে উত্তরীয় পরিয়ে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। এরপর কলেজের মেধাবী ও অস্বচ্ছল পরিবারের ৭ শিক্ষার্থীকে ভান্ডারী পরিবারের পক্ষ থেকে ‘মতিয়ার রহমান ভান্ডারী ও হাসনা জাহান শিক্ষা বৃত্তি’ প্রদান করা হয়।

শুরুতেই এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। সবশেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. মীর ত্বাইফ মামুন মজিদ।

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কলেজের ১৯৮০-৮১ ব্যাচের শিক্ষার্থী কানাডা প্রবাসী হোসনে আরা জেমীকে এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুনঃ