
নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফচিকা সড়কের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে নতুন ইটের বদলে পুরাতন ইট ব্যবহার করেই চলছে সংস্কার কাজ। স্থানীয়রা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এক মাস কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।এবার কাজ শুরু করলেও আবার পুরাতন ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে ধীরগতির সংস্কার কাজে ওই রাস্তার যাতাযাতকারী লোকজন পড়েছে বিপাকে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মদন উপজেলার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মদন পৌরসদরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মোড় থেকে পার্শ্ববর্তি আটপাড়া ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় যাতায়াতের ফচিকা সড়কের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। আই আর আর ডি পি-৩ প্রকল্পের আওতায় ফচিকা সড়কের ১ হাজার ৪৫০ মিটার রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেন এলজিইডি। এতে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ২ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ টাকা। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মামুন ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর কাজ শুরু করে ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে।
গত এক মাস আগে নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদার। কার্পেটিং এর পাশে নতুন ইট দিয়ে এইজিং এর কাজ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার রাস্তায় ব্যবহার করা পুরাতন ইট এইজিং এ ব্যবহার করছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করলে কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদার। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় ওই রাস্তায় যাতায়াতকারী লোকজন পড়ে সীমাহীন দূর্ভোগে। কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা চিঠি দিলে কাজ শুরু করলেও পুরাতন ইট পরিবর্তন করেনি ঠিকাদার। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুকুল ইসলাম বলেন, কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম করছে ঠিকাদার। রাস্তায় ব্যবহার করা পুরাতন ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন বার বার প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিবাদ করায় এক মাস যাবত কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। দুই দিন হয় আবার কাজ শুরু করেছে। কিন্তু নতুন ইটের বদলে আবার পুরাতন ইট ব্যবহার করছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি স্বপন মিয়া বলেন, কয়েকদিন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন আবার শুরু করেছি। পুরাতন ইট ব্যবহার করেছিলাম। কিন্তু এখন সেগুলো তুলে নতুন ইট দিয়েই সংস্কার কাজ করতেছি।
উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জানান, ফচিকা সড়কের সংস্কার কাজে নতুন ইটের বদলে পুরাতন ইট ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এমন অনিয়ম করায় ঠিকাদারী
প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি দেওয়ায় কিছু দিন কাজ বন্ধ রেখেছিল। ব্যবহার করা পুরাতন ইট পরিবর্তন সড়ানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি পুরাতন ইট না সড়িয়ে কাজ শুরু করে তাহলে তাদের কোন বিল দেয়া হবে না।