কালীগঞ্জে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন

16

তোফাজ্জল হোসেন কালীগঞ্জ(লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ 

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ,নেসকো,পিএলসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী,সহকারী প্রকৌশলী ও মিটার পাঠক(পিচরেট)এর বিরুদ্ধে  মিটার না দেখে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল ও গ্রাহক হয়রানীর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে উপজেলার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারন জনগন।

মঙ্গলবার(১৪) মার্চ দুপুর ১২টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর কালীগঞ্জ কার্যালয়ের সামনে শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে করতে তারা সর্বস্বান্ত। আগের তুলনায় এখন কয়েকগুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে। বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, আগামী মাস থেকে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু মাসের পর মাস ধরে অস্বাভাবিক বিল আসছেই। সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন। বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনরায় নিতে গেলে ভুতুড়ে বিল পরিশোধের পাশাপাশি সংযোগ নিতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। 

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটারের রিডিং দেখে বিল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও  প্রতি মাসে অফিসে বসে অনুমাননির্ভর ভুতুড়ে বিল তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে বিলি করেন। এতে অতিরিক্ত বিলের বোঝা মাথায় নিয়ে বিদুৎ অফিসসহ বিভিন্ন জায়গা ধরনা দিচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। 

অনেক সময় অফিসের লোকজনের সঙ্গে ভুতুড়ে বিলকে কেন্দ্র করে গ্রাহকরা জড়িয়ে পড়ছেন বাগবিতণ্ডায়। দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যা চলতে থাকায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। 

মানববন্ধনে জানা গেছে,উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিড়ি শ্রমিক রুহুল আমিন নামে এক গ্রাহক ২০১৫ সালে নিয়েছেন বিদ্যুৎ সংযোগ। বাড়িতে তিনটি বাল্ব ব্যবহার করে প্রতিমাসে  বিদ্যুৎ বিল আসতো ১০০/২০০/৩০০ ইউনিট করে। তবুও  কোনদিন অভিযোগ না করে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছিল। হঠাৎ ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তার ব্যবহৃত বিদ্যুৎ  ৪৮০০ ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে এটি ভুতুড়ে বিল দেন নেসকো কালীগঞ্জ।  অথচ তার অক্টোবর /২০২২ এ নিয়মিত মিটার রিডিং ছিল ১১৯২০ ইউনিট। যার পরবর্তী নভেম্বর মাসে মিটার রিডিং ১৬৭২০ ও ব্যবহৃত ইউনিট ৪৮০০ দেখিয়ে এই শ্রমিক রুহুল আমিনকে বিল দেয়া হয় ৫৭ হাজার ৬শত ৫৫ টাকা। আবার পরবর্তী ডিসেম্বর মাসে মিটার রিডিং সর্বশেষ ১২০২০ ইউনিট দেখিয়ে ব্যবহৃত ৫০ ইউনিটের বিল তাকে প্রদান করেন। তিনি এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে এসে এর প্রতিকার চাইলেও সেই ভুতুরে বিল ৩ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে অফিসের বিল ডিস্ট্রিবিউটর নূরুল নামের একজন বিলটি কমিয়ে ৩৪ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলেন।  অবশেষে মানববন্ধনের কথা জানতে পেরে সেই বিল ডিস্ট্রিবিউটর নিজেই ওই শ্রমিকের বিল পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এমন প্রতিশ্রুতি পেয়ে ওই ভুক্তভোগী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেননি। 

এ ব্যাপারে জানতে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী রকি চন্দ্র দাস বলেন, অভিযোগ থাকতেই পারে,সমস্যা থাকতেই পারে, রুহুল আমিনের বিষয়টি অনেক আগের কিন্তু তিনি আগে আসেনি একটু আগে এসেছিলেন। সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমন অভিযোগ কোন গ্রাহক করলেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আমার দরজা সকল গ্রাহকের জন্য উম্মুক্ত।