
রাজধানীর তুরাগ থানার দিয়াবাড়ি এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষনের ঘটনা ঘটিয়েছেন মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের এক বাস চালক। এ ঘটনায় জড়িত চালকসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে তুরাগ থানা পুলিশ।
গত ২১ জানুয়ারি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১২ই অক্টোবর দুপুরে উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৮ নং সেক্টর মাধবীলতা বিল্ডিংয়ের পূর্ব পাশে রাস্তার উপরে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের বাসের মধ্যে উঠিয়ে নাবিলা হক (১২) (ছদ্মনাম) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষন করেন গাড়ি চালক হারুনুর রশিদ(৫০)।
ঘটনার পর এ বিষয়ে জানা জানি না হলেও ঘটনাটি অনেক দিন পর মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত হয় যে, নাবিলা অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি শুনার পর ২১ জানুয়ারী নাবিলার বাবা বাদী হয়ে তুরাগ থানায় দুই জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে গাজীপুর এরশাদ নগদ এলাকা থেকে দুইজন আসামীকে গ্রেফতার করে তুরাগ থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম মোল্লা।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, ধর্ষক হারুন অর রশিদ (৫০) ও তার সহকারী মো. তুষার (৪৬)।
মামলায় ভুক্তভোগীর বাবা উল্লেখ করেন,
নাবিলা উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় স্কুলের বাস চালক হারুন অর রশিদের(৫০) সঙ্গে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ের নাবিলা নিয়মিত ঐ স্কুল বাসে করে আসা যাওয়া করত। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের মধ্যে মোবাইল নাম্বার আদান প্রদান হয়। এক পর্যায়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি নাবিলার বাবা জানতে পারলে পরবর্তীতে মাইলস্টোন স্কুল থেকে সরিয়ে মেয়েকে উত্তরা সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ভর্তি করান।
এরপর অভিযুক্ত চালক হারুন গত ১২ অক্টোবর নাবিলাকে সাউথ পয়েন্ট স্কুল এর সামনে থেকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে স্কুল বাসে তুলে নেয়। এই সময় বাসের চালকের আসনে ছিলেন চালক তুষার। বাসের মধ্যে নাবিলাকে ধর্ষণ করেন হারুন। এ বিষয়ে ভুক্তভুগী নাবিলা কাউকে কিছু না জানালে ও পরবর্তীতে মেয়ের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি তারা টেরপান। এরপরই নাবিলার বাবা তুরাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে জানতে মাইলস্টোন কলেজের প্রশাসনিক পরিচালক মাসুদ আলমকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, এটা আমার কলেজের বিষয় না।
এ দিকে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ভেতরে চলছে চাপা ক্ষোভ। তারা বলছেন, রক্ষক যদি ভক্ষক হয়। আমাদের ছেলে মেয়েদের স্কুল-কলেজে দিয়ে নিরাপত্তা কোথায়।
এই ঘটনায় নিজের দায় এড়িয়ে গেলেন মাইলস্টোন কলেজের ট্রান্সপোর্ট সুপারভাইজার শাহাদাত হোসেন।
ডিআই/এসকে