শেরপুরে আদিবাসী ভগ্নীপতির হামলায় ৩ শ্যালিকা আহত

12

এম,শাহজাহান শেরপুর প্রতিনিধিঃ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীতে অবৈধ বালু উত্তোলণ ও যাতায়াতে বাধা প্রদান করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোন জামাইয়ের হামলায়  আহত হয়েছে তিন শ্যালিকা। 

স্থানীয় গারো আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও আহত পরিবারের সদস্যরা জানায়, প্রয়াত মলয় রেমার কন্যা রিনা মানখীন, বিচিত্রা মানখীন, মনীষা মানখীন ২৪জানুয়ারী  মঙ্গলবার বোন জামাই গলিয়াত রেমার বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে স্থানীয় মেম্বারের বাড়ি থেকে নিজ বাড়ি ফিরছিল। এ সময় গলিয়াত ও তার পুত্র পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।  হামলায় রিনা মানখীনের মুখে পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। রিনাকে গুরুতর আহতবস্থায় নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকী ২ বোন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ভারতীয় সীমাঘেঁষা জিরো পয়েন্ট,নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের তারানি গ্রামে ভোগাই নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করে আসছে অসাধু ব্যবসায়িরা। এর সাথে জড়িত গলিয়াত রেমা।

এসব বালু বের করার রাস্তা না থাকায় গলিয়াতের সিদ্ধান্ত মতো তাঁর শ্বশুর প্রয়াত মলয় রেমার বাড়ীর উপর দিয়ে জোড়পূর্বক  বালু বের করে আসছে। এদিকে তাঁর শ্বাশুড়ি, শ্যালক ও শ্যালিকারা গলিয়াতের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। মলয় রেমার স্ত্রী সন্তানরা বাড়ির  টিনের বাউন্ডারি দিলে বালু বের করার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।  বালু বের করার রাস্তা বন্ধ হওয়ায় গলিয়াত ক্ষিপ্ত হয় তার শ্বাশুড়ি, শ্যালক শ্যালিকার প্রতি। 

রিনা মানখীন, বিচিত্রা মানখীন, মনীষা মানখীন জানান, গলিয়াতের অত্যাচারে তাদের পরিবার অতিষ্ঠ।

তাই মলয় রেমার স্ত্রী সনন্দা মানখীন তার কন্যা গলিয়াতের স্ত্রী রুমা মানখীনকে হিস্যামতো জমিজমা দিয়ে ২০১৮ সালে ত্যজ্য করে দেয়। এরপরও গলিয়াত তাদের জমিজমা নিয়া নানা রকম ষড়যন্ত্র করে আসছে।

জোড়পূর্বক শ্বাশুড়ির জমি ভোগদখলের পায়তারা করে। গত ১৪ জানুয়ারি গলিয়াত তাদের বাড়িতে হামলা করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে বলে শ্যালিকা সেংমি মানখীন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

গলিয়াতের এমন কর্মকান্ডে নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার  সালিশী বৈঠক করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।