৪ দিনেও গ্রেফতার হয়নি শিক্ষক পেটানো সেই আ’লীগ নেতা 

8

শৌখিন মিয়া, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ 

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকন ও তার সহযোগী আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মারধরের মামলা করার তিনদিন পরও তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন মহলে নিন্দা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

গত শনিবার রৌমারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন ফুলকারচর নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নরুন্নবী।

আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকন (৪০)। তিনি উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের পাখিউড়া গ্রামের আজমত আলীর ছেলে। তিনি সদ্য ঘোষিত আংশিক কমিটির উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। অন্য আসামি হলেন আসাদুল ইসলাম (৪৭) । তিনি একই ইউনিয়নের ফুলকারচর গ্রামের মৃত আকায়েত উল্লাহ’র ছেলে।  

মারধরের শিকার প্রধান শিক্ষক মো. নরুন্নবী বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে যে অত্যাচার করা হয়েছে, তা আমি এখনও মেনে নিতে পারছি না। তিনি পুলিশের কাছে আওয়ামী লীগের নেতা রোকনুজ্জামান রোকনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

উপজেলার এক সহকারী শিক্ষক কাজিউল ইসলাম বলেন, একজন প্রধান শিক্ষককে যেভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করা হয়েছে, তা সত্যিই সকল শিক্ষক জাতির জন্য লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। একজন শিক্ষক হিসেবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

রৌমারী থানার ওসি রুপ কুমার সরকার জানান, অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে শিক্ষা অফিসে কাজে যান প্রধান শিক্ষক মো. নরুন্নবী ও তার অফিস সহকারী আব্দুর রশিদ। কাজ শেষে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা চত্বর থেকে তাকে তুলে নিয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতা রোকনুজ্জামান রোকন ও তার লোকজন।

প্রথমে তাকে পলি পরিবহণের বাস কাউন্টারে নিয়ে আটকে রেখে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মোটরসাইকেলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে। সেখানে তার গালে এলোপাতারি চড়থাপ্পর ও কিল ঘুষি মারতে থাকেন আওয়ামী লীগের ওই নেতা।

পরে ওই নেতাকে ধাক্কা দিয়ে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা।

সিসিটিভির ক্যামেরায় ধারণকৃত মারধরের সেই দৃশ্যের একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সবার নজরে আসে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে মারধরের শিকার প্রধান শিক্ষক মো. নরুন্নবী বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকনসহ তার সহযোগী আসাদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। 

ওইদিন রাত ৯টার দিকে রৌমারী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের সকল পদ-পদবি থেকে রোকনুজ্জামান রোকনকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হোরায়রা।

এর আগে (ঘটনার দিন) বৃহস্পতিবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন নির্যাতিত ওই প্রধান শিক্ষক মো. নরুন্নবী।