
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় ওমর ফারুকের (৩৫) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। নিহত ফারুক তার বাবার গাড়ির চাকাত ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন।
আটককৃতের নাম – আবু হানিফ রনি (৩৫)।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চড় থাপ্পড় খেয়ে ভিকটিম বাসায় যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা দলবেঁধে আবার তার (ভিকটিমের) বাসায় ঢিল ছুড়লে ওমর ফারুক বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। রাস্তায় তাকে মারধরের ঘটনায় মিম, রনিসহ বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। রনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটির নেতা।
রবিবার ( ২২ অক্টোবর ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মফিজুর রহমান পলাশ।
নিহতের বন্ধুদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গতকাল শনিবার রাতে কিশোর গ্যাং লিডার মিমের নেতৃত্বে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫/৬ জনের একটি দল ব্যবসায়ী ওমর ফারুকের ওপর হামলা করে। রাস্তায় তাকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার পর নিহত ওমর ফারুক তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়ার বিষয়টি বন্ধুদের জানান। এরই মধ্যে বন্ধুদের খারাপ লাগার কথা কথা বলার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপস্থিত বন্ধুরা তাকে মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় তেমন কোনো সমস্যা না ধরা পরায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরে আবারও অসুস্থ হয়ে পরেন। আবারও হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক পুলিশ ও স্বজনদের নিশ্চিত করেছেন, হার্ট ফাউন্ডেশনে দ্বিতীয় বার আনার আগেই রাস্তায় মৃত্যু হয় ওমর ফারুকের। পরবর্তীতে খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ঘটনার পরপরই শাহআলী থানা পুলিশ আবু হানিফ রনি নামের একজনকে আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু নাম পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এই ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় অভিযোগ দেয় নি। অভিযোগ দিলে হত্যা মামলা নেওয়া হবে।
ডিআই/এসকে