
ডেস্ক রিপোর্ট :
দলীয় প্রতীকে না হলে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ভাববে বিএনপি-জামায়াত চলছে আলোচনা
দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিধান তুলে দেওয়া হলে উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও দল দুটির বিভিন্ন পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বুঝে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে পর্যালোচনা শেষে করণীয় ঠিক করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে প্রতীকের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত আসুক না কেন, চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বর্তমান সরকারের অধীনে উপজেলাসহ কোনো ধরনের নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন স্থানীয় সরকারের ভোটে নজর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবার আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। রোজার আগে মার্চের প্রথমার্ধেই প্রথম ধাপের নির্বাচন হতে পারে। আগামী মার্চে শুরু হয়ে কয়েক ধাপে এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলবে। ৪৮৫টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনযোগ্য। এই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার পাশাপাশি তৃণমূলে দলীয় কোন্দল নিয়ন্ত্রণে দলীয় প্রতীকের বিধান না-ও রাখা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নেতাকর্মীরা হামলা-মামলায় ঘরবাড়ি ছাড়া। আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। ফের নির্বাচনে গেলে ক্ষতি ছাড়া লাভ নেই। তা ছাড়া এই নির্বাচনে তো সরকার বদলাবে না; বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে আদায় করা যায় সেদিকেই বিএনপির গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দলের অনেক নীতিনির্ধারকও নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা সঠিক। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা আবার প্রমাণিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আদলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে সরকার। ফলে নির্বাচনে গিয়ে তেমন লাভ হবে না; বরং এই নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলে হামলা-মামলা আরও বাড়তে পারে।
দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা না থাকলে বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কালবেলাকে বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় আমরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিইনি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে উপজেলা নির্বাচনে যদি দলীয় প্রতীক বাধ্যতামূলক না থাকে সে ক্ষেত্রে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা নীতিনির্ধারণী ফোরামসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামী আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে যাব কি না, তা নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেনি। অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেয়নি। তবে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে দলটির অনেকেই স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি দলটি। এখন আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়েও দলটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং অন্য সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব দেখে এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে জামায়াত। জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অসংখ্য নেতাকর্মী এরই মধ্যে হামলা-মামলায় পর্যুদস্ত। এখন উপজেলা নির্বাচনে গিয়ে নতুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চান না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ কালবেলাকে বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। উপজেলা, সিটি করপোরেশন, এমনকি ইউপি নির্বাচনেও তারা কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে। ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনেও ভোটের নামে প্রহসন দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। উপজেলা নির্বাচনে যদি দলীয় প্রতীকে বাধ্যবাধকতা না থাকে, সে ক্ষেত্রে আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেব।’
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে না চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা সব নির্বাচন বয়কট করেছি। এ নিয়ে আমাদের নতুন ভাবনা নেই। উৎস: কালবেলা