
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় কৃষি জমির উপরের অংশ তথা উর্বর মাটি বা টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভাটা মালিকরা। উর্বর মাটি ইটভাটায় চলে যাওয়া ফসল উৎপাদন কমছে। শুধু তাই নয় ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে পরিবেশ। মাটিতে যে জিপসাম বা দস্তা থাকে তা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে মাটির জৈব শক্তি কমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখিনের পাশাপাশি চরম খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এছাড়া মাটি পরিবহনকারী ট্রলি ও ট্রাকগুলো যেনতেনভাবে মাটি ভর্তি করে মহাসড়ক ও ইউপি’র গ্রামীণ কাচা-পাকারাস্তাগুলোতে চলাচল করছে।
এতে রাস্তায় মাটি পড়ে পাকা রাস্তার ভিটুমিন নষ্ট ও কাচাঁ রাস্তা ধেবে গিয়ে জনপথের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীসাধারনকে। জানাগেছে, উপজেলার ২২টি ইটভাটার মধ্যে ২টি ব্যাতীত বাকীগুলোর পরিবেশগত কোন ছাড়পত্র নেই। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিশেষ করে লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা ও ফসলি জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে তুলছে ইট ভাটা। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলায় জন স্বাস্থ্য হুমকির মুখে। হারিয়ে যাচ্ছে জীব-বৈচিত্র, বিনষ্ট হচ্ছে আমাদের চির চেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ। এছাড়া সরকারী আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি ইট ভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই আইন লক্সঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানাগেছে, মশুল্লী, সিংরইল, রাজগাতী, গাংগাইল, আচারগাঁও ও নান্দাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের ফসলি জমির মাটির ৩ ফুট উপরি অংশ ইট ভাটায় চলে যাচ্ছে। ভেকু (এ·কাভেটর) দিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি। ইট ভাটার দালালরা মূলত কৃষকদের বিভিন্নভাবে
ফুসলিয়ে বা ভুল বুঝিয়ে জমির মাটি স্বল্প মূল্যে খরিদ করে তা ইট ভাটায় বিক্রি করছে ভাটা মালিকদের কাছে। এতে লাভবান হচ্ছে ইটভাটার মালিক সহ একটি দালাল চক্র। তবে লোভে পরে
কৃষকদের ক্ষতি সহ নষ্ট হচ্ছে ভূমির পরিবেশ ও রাস্তাঘাট। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ইটভাটাগুলো। ফলে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। নান্দাইল ইটভাটা মালিক সমিতির সেক্রেটারী সারোয়ার বলেন, প্রশাসন বিষয়টি জানে। আর ভাটার ছাড়পত্র প্রক্রিায়াধীন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিছুজ্জমান বলেন, উর্বর মাটি তৈরি হতে অনেক বছর সময় লাগে। একটি উদ্ভিদের ১৬ প্রকার খাদ্যের মধ্যে মাটিতে ১৩ প্রকার খাদ্য উপাদান রয়েছে। ফসলি জমির উপরিভাগ ৪-৬ ইঞ্চি মাটি বেশী উর্বর। তবে এভাবে উর্বর মাটি ভাটায় চলে গেলে ভবিষ্যতে ২০-৩০শতাংশ হারে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাবে। প্রশাসনের
পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জরিমানা আদায় করার পরেও তা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুণ কৃষ্ণ পাল বলেন, ইতিমধ্যে ইঁটভাটায় মাটি নেওয়ায় রাস্তা নষ্ট করায় ৬টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে এবং একটি ইটভাটা লাইসেন্স না থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাকীগুলো দেখছি। ময়মনসিংহ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ পরিদর্শক মাহাবুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটা প্রতিরোধে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। অভিযোগ দেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।