
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ২নং উত্তর চরবংশি ইউনিয়নে খাশের হাট বাজার ৭নং ওয়ার্ডে হারুন মৃধা নামে এক দুশ্চরিত্র লম্পট ইপ্টেজারের ভয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে শঙ্কিত হয়ে দিনকাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেনির বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী জানান, ” আমি প্রতিদিন সকাল ৬:৪৫ মিনিটে কোচিংএ যাই। একটানা ৪/৫ দিন আমাকে অনুসরন করার পর গত ২৫ আগস্ট-২০২৩ইং সকালে পিতার বয়সতুল্য দুঃশ্চরিত্রবান হারুন মৃধা নামের ব্যক্তি আমার পথ রোধ করে এবং তার নির্জন গৃহে নেওয়ার কুপ্রস্তাব দেয় এবং শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় আমি কোনো রকমে দৌড়ে জীবন নিয়ে আমি কোচিং সেন্টারে যাই। আমি মানসিক ভাবে খুবই ভেঙ্গে পড়ি এবং আতঙ্কগ্রস্থ হই।
পরের দিন ২৬ আগস্ট-২০২৩ইং দুস্কৃতিকারী হারুন মৃধা মালেকখান সাহেবের ব্রীজ থেকে পুনরায় আমার পিছু নেয়। পরবর্তিতে আমার সহপাঠিদের সহযোগিতায় কোচিং সেন্টারে আসি এবং স্যারকে বিষয়টি জানাই। স্যার কোচিং শেষে আমাদেরকে নিয়ে এগিয়ে দেয়ার উদ্যেশে ব্রাইট স্কুল পর্যন্ত আসেন এবং হারুন মৃধাকে খোঁজ করেন। দুস্কৃতিকারী হারুন মৃধাকে তার গৃহে অনুপস্থিত পান। অতঃপর আমরা বাড়ির দিকে রওয়ানা দেই। খাসের হাট বাজারে পৌঁছার পর দুষ্কৃতিকারী পুনরায় আমাদের পিছু নেয়। ভয়ে আমরা খাসেরহাট বাজারের উত্তর মাথায় আয়েশা ভ্যারাইটিজ স্টোরে আশ্রয় গ্রহন করি। দুষ্কৃতিকারী হারুন মৃধা তখনও আমাদের পিছু ছাড়ে নাই। তখন আয়েশা ভ্যারাইটিজ স্টোরের কর্মরত একজন ব্যক্তির সহায়তায় আমরা আমাদের অভিভাবকতূল্য শ্রদ্ধাভাজন স্যারকে ফোন করে জানাই।
স্যার আসার সাথে সাথে যখন আমরা দুষ্কৃতিকারীকে চিহ্নিত করি। তখন সে পালিয়া যাওয়ার চেষ্টা করলে স্যার ঘটনাস্থলে হাতেনাতে দুষ্কৃতকারীকে ধরেন এবং হালকা শায়েস্তা করেন। অতঃপর আমাদেরকে বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য আমার পরিবারকে চাপ প্রযোগ করে যেন আমরা কাউকে না জানাই। আরো বলে আমি মেয়ে মানুষ আমার এত পড়া লেখার দরকার নাই। মান সম্মানের ভয় দেখায় এবং উল্টা আমাকে মিথ্যা অপবাদ দেয়।
এ বিষয়ে ঐ শিক্ষার্থীর মা বলেন, হারুন মৃধা আমার মেয়েকে ইপ্টেজিং করেছে যখন আমরা বিষয়টি নিয়ে বিচার চাই তখন আমার মেয়ের সঙ্গে অন্য ছেলের প্রেমের সম্পর্ক আছে বলে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়েছে বিষয়টি নিয়ে আমরা চেয়ারম্যান বরাবর বিচার চেয়েছিলাম এমনকি ইপ্টেজিং এর মামলাও করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় আমার দেবরসহ স্থানীয় অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোতে নিষেধ করায় আমরা বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সামনে যেতে চাচ্ছি না। হারুন মৃধা নিজে এসে আমাদের কাছে হাতেপায়ে ধরে মাফ চেয়েছে এবং তাকে জুতাপেটা করা হয়েছে। হারুন মৃধা বলছে আর কখনও কোন মেয়ের সঙ্গে এরকম করবেনা। দ্বিতীয় কোনদিন যদি কোন মেয়ের সঙ্গে এরকম করে তবে আমরা তাকে ছেড়ে দিবনা।”
এছাড়াও দারুণ নাজাত একাডেমির এক ছাত্রীকেও একাধিকবার ইপ্টেজিং করার অভিযোগ রয়েছে হারুন মৃধার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে দারুণ নাজাত একাডেমির শিক্ষক নাজির আহমেদ, শিক্ষক আরিফ হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, ” আমাদের ৯ম শ্রেণির একজন ছাত্রীকে টানা তিনদিন ধরে হারুন মৃধা ইপ্টেজিং করে মোবাইল নাম্বার চাচ্ছে। ঐ ছাত্রী নিরুপায় হয়ে আমাদেরকে বিষয়টি জানালে আমরা কয়েকজন শিক্ষক পাহারা দিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলি। তখন লম্পট হারুন মৃধা বলেন, মেয়েটার বিবাহের জন্য তার কাছে মোবাইল নং চাচ্ছি এবং তার পিছু নিয়েছি। যখন আমরা তাকে শোধরাতে বলি তখনই হারুন মৃধা আমাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। স্কুলগামী ছাত্রীদের ইভটিজিং, শ্লীলতাহানি, ভীতি প্রদর্শন, যৌন নির্যাতন চেষ্টা ও দুঃশ্চরিত্র লম্পট হারুন মৃধার একটা সুষ্ঠু বিচার হোক সেটাই চাচ্ছি। ”
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ক্লাস বিরতি সময়ে প্রকাশ্যে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করেছে এই দুশ্চরিত হারুন মৃধা। ভয়ে, লজ্জা ও ঘৃণায় ঐ শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে চলে যায়। ঐ স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখন হারুন মৃধার ভয়ে স্কুলে যেতে শঙ্কিত ।
স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় স্ত্রীর মৃত্যুর পরে নারীলোভী হারুন মৃধা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লম্পট ইপ্টেজার হারুন মৃধাকে ফোন দেওয়া হলে, তিনি ফোন রিসিভ করে রং নাম্বার বলে কল কেটে দেন।
এবিষয়ে জানতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল হোসেনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি আমার জামাইয়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আছি এইমূহুর্তে কথা বলার মতো সুযোগ নেই পরে কথা বলছি।