ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

যাত্রীচাপে কার্ড পাঞ্চ ছাড়াই মেট্রো প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

দিন-রাত উত্তরা-মতিঝিল পূর্ণ যাত্রার প্রথম কর্মদিবসে ঢল নামে যাত্রীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে মতিঝিলসহ শেষ দিকের স্টেশনগুলোতে কখনো কখনো স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের মেশিনে কার্ড পাঞ্চ ছাড়াই যাত্রীদের প্রবেশ করতে দিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। টিকিট কাটতে প্রায়ই মেশিনের ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

নগরবাসীকে পূর্ণমাত্রায় সেবা দেবার প্রথম কার্যদিবসেই এমন পরিস্থিতি শহরের প্রথম মেট্রোর মতিঝিল স্টেশনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের গেটে পাঞ্চ ছাড়াই প্রবেশ করার ঘোষণা দিতে দেখা যায় দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের। যদিও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সবাইকে লাইনে আসার ঘোষণা দিয়েছি।’ বারে বারে স্বয়ংক্রিয় এএফসি গেট বিকল হওয়া, ভিড় ভাট্টা, ঠেলাঠেলি পেড়িয়ে প্লাটফর্মের দিকে ছোটা মানুষের ছিলো একগুচ্ছ অনুযোগ-অভিযোগ; নিজেদের প্রতি, মেট্রো কর্তৃপক্ষের প্রতি।

যাত্রীরা বলেন, ‘আমাদের শক্তিপ্রয়োগ করে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার চিরায়ত অভ্যাস থেকে বেরোতে পারিনি। যদি নিয়ম মানতে পারতাম তাহলে কার্ড পাঞ্চ করে আসতে পারতাম।’ যাদের স্থায়ী এমআরটি বা র‌্যাপিড পাস কেনা ছিলো তারা কোনমতে প্লাটফর্মে ঢোকার প্রতিযোগিতায় ঢুকতে পারলেও, দীর্ঘ অপেক্ষা আছে যাদের কার্ড নেই তাদের। এরমধ্যে নতুন এসেছেন এমন অনেকেই জানেন না, কী করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকেট কিনতে হয়। তাদের অনুযোগ, স্বয়ংক্রিয় মেশিনের কাছে ভলেন্টিয়ারও নেই। যার কারণে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। টিকিটের অপেক্ষায় থাকা আরেক যাত্রী বলেন, ‘ভেবেছিলাম মেট্রোতে যেতে ৩০ মিনিট লাগবে, কিন্তু টিকিটের লাইনেই প্রায় দেড় ঘণ্টা শেষ হয় গেলো। এরপরেও টিকিট কখন পাবো তার নিশ্চয়তা নেই।

প্রথম দিনের এই চাপ সামলানোর ব্যাপারে স্টেশনগুলোতে মেট্রো কর্তৃপক্ষের বাড়তি কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা এড়িয়ে যান। তিনি বলেন,’কোন সমস্যা নেই, শুধুমাত্র যাত্রীর চাপ বেশি।’

এদিকে উত্তরা থেকে মতিঝিল সকাল-সন্ধ্যা পূর্ণ যাত্রার প্রথম কার্যদিবসের সকালেও অফিসগামী যাত্রীদের ছিল ভিড়। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে দীর্ঘ অভ্যাস বদলিয়ে আজ থেকে মেট্রোরেলের যাত্রী হয়েছেন। স্টেশনে ঢোকা থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় দরজা পার হবার সাথে প্ল্যাটফর্মের চিত্রের বিস্তর তফাত। প্ল্যাটফর্মে ট্রেনগুলো আসছে আর যাত্রীরা ঝামেলাবিহীনভাবেই উঠে যাচ্ছেন তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। ভোগান্তি এড়াতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সাধারণ যাত্রীদের এমআরটি পাস কিংবা র‌্যাপিড পাস সংগ্রহের পরামর্শ দিচ্ছে।

যেভাবে করবেন মেট্রোরেলের এমআরটি পাস

বছরখানেক আগে মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাত অবধি চালু হলো মেট্রোরেল। এতে আগের তুলনায় ভিড় বেড়েছে মেট্রো স্টেশনগুলোতে। টিকিট সংগ্রহ করতে ধরতে হচ্ছে লম্বা লাইন। এই দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা থেকে বাঁচতে খুব সহজেই করে নিতে পারেন এমআরটি পাস। এতে সুযোগ-সুবিধাও অনেক।

যাত্রীদের সুবিধায় টিকিটের পাশাপাশি এমআরটি পাস কার্ডের ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। যারা বারবার টিকিট কাটতে চান না—তাদের জন্য এমআরটি পাস কার্ড। এই কার্ডে টাকা রিচার্জ করে যতবার খুশি যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া এ কার্ডের মেয়াদ থাকবে ১০ বছর।

এমআরটি পাস করতে যে কোনো মেট্রোরেল স্টেশন অথবা ওয়েবসাইট থেকে এমআরটি পাস নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে চালু যে কোনো মেট্রোরেল স্টেশন থেকে এমআরটি পাস ক্রয় করতে পারবেন। সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এমআরটি পাস ক্রয় ও টপআপ করা যাবে।

ফরম পূরণ করতে নিজের নাম, বাবা ও মায়ের নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি/জন্মসনদ/ড্রাইভিং লাইসেন্সের নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়েই করা যাবে। আপনার মোবাইলে বা ই-মেইলে এই তথ্যগুলো থাকলেই আপনি এমআরটি পাস ক্রয় করতে পারবেন। এ জন্য আপনার এনআইডি কার্ড বা অন্য কোনো কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে না। জমাও দেয়া লাগবে না।

মেট্রোরেলে ভ্রমণের জন্য বতর্মানে নির্ধারিত টিকিট অফিস থেকে নিবন্ধন ফরমে তথ্য প্রদান করে এমআরটি পাস ক্রয় করা যাবে। এমআরটি পাসের প্রাথমিক মূল্য ৫০০ টাকা। এর মধ্যে নিরাপত্তা জামানত ২০০ টাকা ও ব্যবহারযোগ্য অর্থের পরিমাণ ৩০০ টাকা। এই কার্ডের মেয়াদ ১০ বছর।

এমআরটি পাস ব্যবহার করে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করলে যাত্রীরা ভাড়ার ওপর ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। পাশাপাশি প্রতিবার লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের ঝামেলাও থাকবে না। ধরুন, আগারগাঁও থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের ভাড়া আপনি একক টিকিট কাটলে ৩০ টাকা গুনতে হবে। যদি আপনার এমআরটি পাস থাকে তাহলে আপনার কার্ড থেকে কাটা হবে ২৭ টাকা। এভাবে এমআরটি পাস থাকলে প্রতি ভ্রমণে আপনি পাবেন ১০ শতাংশ ছাড়।

এমআরটি পাস ফেরত দিতে চাইলে ৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ কেটে নিরাপত্তা জামানত ও অব্যবহৃত স্থিতি ফেরত দেয়া হবে। মেট্রোরেল ভ্রমণের জন্য অনেকেই এরই মধ্যে এমআরটি পাস ব্যবহার করছেন। তবে কার্ডটি যত্নে রাখতে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ওয়ালেটে বা মানিব্যাগে না রেখে সাবধানে রাখার কথা বলা হচ্ছে। কারণ, কার্ডটি নষ্ট হলে বা হারিয়ে গেলে পুনরায় ইস্যুর জন্য আপনাকে টাকা দিতে হবে।

হারিয়ে যাওয়া এমআরটি পাস পুনঃইস্যুর জন্য পুনরায় নিরাপত্তা জামানত ২০০ টাকা এবং প্রসেসিং ফি বাবদ ২০০ টাকা মোট ৪০০ টাকা জমা দিতে হবে। পুনঃইস্যুর পর হারিয়ে যাওয়া পাসটি খুঁজে পাওয়া গেলে এবং ব্যবহারযোগ্য হলে ৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ প্রদান করে নিরাপত্তা জামানত ফেরত পাওয়া যাবে।

এমআরটি পাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুনঃইস্যুর জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। অব্যবহৃত স্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন এমআরটি পাসে স্থান্তারিত হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এমআরটি পাস পুনঃইস্যুর জন্য প্রসেসিং ফি বাবদ ২০০ টাকা দিতে হবে।

এমআরটি পাসে প্রথমবার করা রিচার্জের টাকা শেষ হয়ে এলে যে কোনো স্টেশন থেকে টিভিএমের মাধ্যমে আপনার পছন্দমতো টাকার পরিমাণ রিচার্জ করে নিতে পারবেন। মেট্রোরেলের এন্ট্রি বা এক্সিট গেটে এমআরটি পাস যথাযথভাবে স্পর্শ করা না হলে পরবর্তী সময়ে এন্ট্রি বা এক্সিটের সময় সমস্যা হবে। এ ক্ষেত্রে ইএফওতে যোগাযোগ করে পাসটি কার্যকর করে নিতে হবে।

এমআরটি পাস ব্যবহারে কোনো অনিয়ম করা হলে পাসটি ব্লক হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে পাসটি কার্যকর করার জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ইএফওতে আবেদন দাখিল করতে হবে।

শেয়ার করুনঃ