সম্মেলনকে ঘিরে চাঙা ছাত্রলীগ-নতুন নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

40

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন।

এরইমধ্যে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছাস আর প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শেষ সময়ে নতুন নেতৃত্বে আসার জন্য দলের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে লবিং-তদবি বাড়িয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন ছাত্র নেতারা।

আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন তারই প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন কর্মী-সমর্থকরা।

সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই মধুর ক্যান্টিনের বাইরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়েও পদপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা স্বর্তেও বয়সের কারণে আটকে যেতে পারে অনেকের নেতৃত্বের চাকা।

সূত্র বলছে, বিভাগ ভিক্তিক রাজনৈতিক মেরুকরণের জন্য এক এক সময় এক এক বিভাগ থেকে নেতৃত্ব নিয়ে আসা হয়। যদিও ফরিদপুর অঞ্চল থেকে নিয়মিত একজন থেকেই যাচ্ছে শীর্ষ নেতৃত্বে।

তাই অঞ্চল ভিত্তিক এসব নেতাদের কাছে তদবিরের আশায় ছুটছেন অনেকে। তবে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা, চারিত্রিক মাধুর্যতা, শিক্ষার্থীবান্ধব আওয়ামী পরিবারের নেতাদেরকেই নেতৃত্বে আনার কথা জানান দলের নীতি নির্ধারক ফোরাম।

এছাড়াও করোনা মহামারির সময় মানবিক কাজে যারা সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্বল করেছেন তাদেরকেও বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়স ২৭ এর মধ্যে থাকলেই কেবল নেতৃত্বে আসার সুযোগ রয়েছে। সেই হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলের অনেকেই ছিটকে পড়বে কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদ থেকে। তবে বিগত কয়েকটি কমিটিতে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ বছর বাড়িয়ে অনুর্ধ ২৯ করেছেন।

নীতি নির্ধারকরা মনে করছে গঠনতন্ত্রে ২৭ বছর বয়স, এর বাইরে নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী বড়জোর অনুর্ধ ২৯ এর মধ্যে যেতে পারেন।

কোন ভাবেই ২৯ এর বেশি কেউ নেতা হতে পারবেন না। সেই হিসেবে বয়স ২৯ এর বেশি হলেও শীর্ষ পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সোহান খান যার বয়স ৩২ অতিক্রম করেছে আরও আগেই।

নেতৃত্বের দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন যারা : তারা হলেন, বর্তমান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহমেদ রাসেল,

সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, সহ-সম্পাদক মো. আনফাল সরকার পমন। উত্তরবঙ্গ থেকে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু,

সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন, শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, তথ্য ও গভেষণা সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মন। বরিশাল বিভাগ থেকে আলোচনায় আছেন সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি তিলোত্তমা শিকদার,

সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ, সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ (ইনান), উপ-বিজ্ঞান সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, কর্মসংস্থান বিষয়ক উপ-সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়।

কার্যালয়ে সচরাচর প্রবেশ করতে দেখা যায় না। দিবস ভিক্তিক কর্মসূচি পালন করতেই কেবল কেন্দ্রীয় নেতারা ছাত্ররীগের কার্যালয়ে যায়। ২০০৬ সাল থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হয়ে আসছে। এখন পযর্ন্ত এ ধারা অব্যাহত আছে।

প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ক্যম্পাস থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের জন্য প্রার্থী হলেও আলোর মুখ দেখছে না।

এবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ, ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও কেন্দ্রয়ি কমিটির সদস্য আল আমিন শেখ এবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় সাইদুর রহমান হৃদয়, চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলগের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ইমাম এর মধ্যে যে কেউ শীর্ষ পদে আসতে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক তারেক আজীজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল আফসার।

এছাড়াও মানবিক নেতা হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন মো. সোহেল মিয়া। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, নতুন করে আলোচনায় আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাজু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল জামান নোভেল,

সহ-সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিঠু ।

এ ছাড়া ও মানবিক নেতা হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন মোঃ সোহেল মিয়া।

তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ।