স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মরত আট শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী। অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো অর্থসংকট নেই। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক অ্যাকাউন্টে শতকোটি টাকা জমা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো পরিচালনা বোর্ড নেই। ফলে বেতন বিলে স্বাক্ষর কে করবেন তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় প্রায়শই বেতন ভাতা বন্ধ থাকে। এর আগেও একই সমস্যা হয়েছিল। বিশেষভাবে এই অর্থপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করেছিল শিক্ষা অধিদপ্তর। এর স্থায়ী সমাধান চান তারা। চলতি মাসের মধ্যেই দ্রুত কমিটি অনুমোদন করে পরবর্তী মাসের বেতন-ভাতা চান ভুক্তভোগীরা।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের সুপারিশ করা তিনটি নামের মধ্য থেকে জেলা প্রশাসকের একজন অভিভাবক প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা না করে স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের দেওয়া তালিকা থেকে অভিভাবক প্রতিনিধি মনোনয়ন দেন। একইভাবে প্রধান শিক্ষককে উপেক্ষা করে জেলা শিক্ষা অফিসার শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন দেন। আবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ড প্রধান শিক্ষকের উপেক্ষা করে অ্যাডহক গভর্নিং কমিটি অনুমোদন দেয়, যা নিয়মের ব্যত্যয়। এ কারণে একজন অভিভাবক উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করেন। ফলে আদালত এই কমিটি স্থগিত করে দেয় এবং প্রধান শিক্ষকের তালিকা থেকেই কমিটি অনুমোদনের নির্দেশ দেয়। আদালতের এই রায়ের আলোকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সেই অ্যাডহক কমিটি বাতিল করে এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করে। তাগিদপত্রও দেয় ঢাকা বোর্ড।
একলিমুর রেজা কোরাইস নামে এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষক নুরে আলম এবং একজন অভিভাবক হাইকোর্টের ঐ রায়ের বিরুদ্ধে চেম্বার বিচারপতির আদালতে যান। ফলে আদালত স্থিতাবস্থা দেয়। ফলে কমিটির কাজ আটকে যায়। তাই প্রতিষ্ঠানে যে সংকট চলছে তার পুরো দায় শিক্ষক নুরে আলমের। নুরে আলম এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করেছেন। তাকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে নুরে আলমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দায়িত্ব গ্রহণ : প্রতিষ্ঠানটির তিনটি শাখা প্রধানের পদ শূন্য হলেও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তিন জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই ঐ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্যে একজন মনজুর মাহমুদ। যাকে এর আগেও ওএসডি করা হয়েছিল। কলেজ ক্যাম্পাসের প্রভাতী শাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেন আজিজুর রহমান। বিয়ষটি জানার পর প্রধান শিক্ষক তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে পাঠদানে মনোযোগী হতে বলেন। কিন্তু এই তিন জন এখনো দায়িত্ব ছাড়েননি।
অভিভাবককে জিম্মি করে স্বাক্ষর আদায় : অভিভাবক একলিমুর রেজা কোরাইস বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠানটির নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু একটি সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠানটির অর্থ নানা কৌশলে আত্মসাত্ করে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষার জন্য একাধিক মামলাও করেছি। সম্প্রতি একটি চক্র স্থানীয় সংসদ সদস্যের কথা বলে আমাকে ও স্কুলের আইটির বিভাগের একজন কর্মকর্তাকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমার কাছ থেকে জোর করে অন্তত ২০টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখা হয়। আমি প্রাণে বাঁচতে স্বাক্ষর দিয়েছি। পরে আমাকে ফুলের মালা গলায় দিয়ে ছবি তুলে দিয়ে ফেসবুকে প্রচার করে। আমি এখন আত্মগোপনে আছি।’
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য গেলে তিনি তার সহকর্মীর মাধ্যমে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে হবে। একটি অসাধু চক্র প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের করে নিতে চায়। ট্রাস্ট করার উদ্যোগ নিয়েছিল। তা করতে দেইনি। অনিয়ম দূর করার চেষ্টা করছি। কিন্তু ঐ অসাধু চক্র আমাকে বাধা দিচ্ছে। আমি প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে সরকারের হস্তক্ষেপ চাই।’ উৎস: ইত্তেফাক
স্বত্ব © ২০২৩ সকালের খবর ২৪