
মু.রিয়াজুল ইসলাম লিটন:
বিপিএলের সাদামাটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রঙিন আতশবাজিঝাঁ কে-ঝাঁকে বেলুন উড়ল ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দশম আসর ঘিরে এবার যে প্রত্যাশার বেলুন উড়ছিল, সেটা ঠিক সে অর্থে আর পূর্ণতা পায়নি। অনেকটা সাদামাটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুরু হলো বিপিএলের। এবারের সাদামাটা আসরে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লাকে হারিয়ে শুভ সূচনা ঢাকার।
পূরো ষ্টেডিয়াম গ্যালারি ভর্তি দর্শক। সবার মুখে চিৎকার, গায়ে দুর্দান্ত ঢাকা ও কুমিল্লা ভিক্টোলিয়ান্সের জার্সি। এর মধ্যে নামের মতো মাঠের খেলায়ও দুর্দান্ত হয়ে উঠলো ঢাকা। যেন তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে ইমরুল কায়েসের জুটিতে বড় রানের স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু শেষদিকে তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিং ও শরিফুলের হ্যাটট্রিকে বড় রান হয়নি তাদের। পরে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন নাঈম শেখ।
শুক্রবার মিরপুরে বিপিএলের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সরকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে দুর্দান্ত ঢাকা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান করে কুমিল্লা। পরে ওই রান ৩ বল হাতে রেখেই টপকে যায় ঢাকা। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কুমিল্লার। নেতৃত্বের হাত বদল হওয়ার পর দলটির অধিনায়ক হন লিটন দাস। অধিনায়কত্বের প্রথম ম্যাচটা স্মরণীয় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে ১৩ রান করে শ্রীলঙ্কার চতুরঙ্গা ডি সিলভার বলে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন তিনি।এরপর বড় এক জুটি পায় কুমিল্লা। তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লাকে তিনবার অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন করা ইমরুল কায়েস দলের হয়ে হাল ধরেন। ইমরুল হাফ সেঞ্চুরি তুলেন, সঙ্গে হৃদয়ের ব্যাটে বড় স্বপ্নই দেখছিল কুমিল্লা। কিন্তু হুট করেই ছন্দপতন হয় দলটি। দুজনের ১০৭ রানের জুটি ভাঙে ১৯তম ওভারে এসে। তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ দেন তাওহীদ হৃদয়। ওই ওভারেই তিনি ফেরান ইমরুলকেও। দুই সেট ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর শেষ ওভার করতে আসেন শরিফুল ইসলাম।

১৩তম ওভারে নাঈম শেখ ক্যাচ দেন তানভীর আহমেদের বলে। ৩ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসে ৪০ বলে ৫২ রান করেন নাঈম। আরেক ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা, তিনিও আউট হন তানভীরের বলে। ব্যাট হাতে গুনাথিলাকা ৪১ রান করলেও বলে খেলে ফেলেন ৪২টি।
১৬তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দেন ঢাকার ইরফান শুক্কুর। কিন্তু মিড অনে তার কাচ ফেলে দেন ফিল্ডার। ওই ওভারেই ক্রুসপুল (৫) বিদায় নেন উপরে তুলে মারতে গিয়ে। দৌড়ে এসে ক্যাচ নেন উইকেটকিপার লিটন।
পরের দুই ওভারে মাত্র ১৩ রান নিতে পারেন সাইফ হাসান ও ইরফান শুক্কুর। ১৯তম ওভারে সাইফ হাসান (৭)-কে বিদায় করেন খুশদিল। ওভারে ৯ রান আসে। ফলে শেষ ওভারে মাত্র ৪ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ঢাকার সামনে। প্রথম বলেই ঢাকার অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনকে রান আউটের সুযোগ ছিল বোলার মোস্তাফিজের সামনে। কিন্তু বল সময়মতো স্ট্যাম্পে লাগাতে পারেনি মোস্তাফিজ।
শেষ ওভারের প্রথম বলে লেগ বাই থেকে ১টি রান পায় ঢাকা। পরের বলেই অবশ্য ইরফানের (২৪) উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ঢাকার জয় নিশ্চিত করেন চতুরঙ্গা ডি সিলভা।

প্রথম ইনিংসের শেষ তিন বলে পরপর তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন দুর্দান্ত ঢাকার পেসার শরিফুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম ইনিংসের শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করে বসলেন দুর্দান্ত ঢাকার পেসার শরিফুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) কুমিল্লার তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন শরিফুল। বিপিএলের দশ আসরে এটি সপ্তম হ্যাটট্রিক।
বিপিএলের এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে শুক্রবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও নবাগত দুর্দান্ত ঢাকা মুখোমুখি হয়। ইনিংসের শেষ তিন বলে খুশদিল শাহ, রোস্টন চেজ ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন শরিফুল।
৪ ওভার বল করে ২৭ রান দিয়ে দারুণ বোলিং করেন এই পেসার। ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রানে থামে কুমিল্লার ইনিংস।
বিপিএলে বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন আল আমিন হোসেন। ২০১৫ বিপিএলে বরিশাল বুলসের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। বাংলাদেশিদের হয়ে তার পরের হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন আলিস ইসলাম। ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলা এই স্পিনার ২০১৯ সালে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস: ২০ ওভারে ১৪৩/৬ (লিটন ১৩, ইমরুল ৬৬, হৃদয় ৪৭, খুশদিল ১৩, জাকের আলী ০*, রোস্টন চেজ ০, মাহিদুল ০ ; তাসকিন ২/৩০, শরীফুল ৩/২৭, আরাফাত ০/২৫, চতুরাঙ্গা ১/২২, উসমান ১/২৮, গুনাতিলকা ০/৯)
দুর্দান্ত ঢাকা: ১৯.৩ ওভার ১৪৭/৫ (গুনাতিলকা ৪১, নাঈম ৫২, ক্রুসপুল্লে ৫, ইরফান ২৪, সাইফ ৭, মোসাদ্দেক ১*, চতুরাঙ্গা ৬* ; ফোর্ড ০/২৫, মুশফিক ০/১৯, চেজ ০/১৮, তানভীর ২/২৭, মোস্তাফিজ ২/৩১, হদয় ০/৪, খুশদিল ১/১২)।
ফলাফল: দুর্দান্ত ঢাকা ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শরীফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা)।
বিপিএলের ৭ হ্যাটট্রিক
১. মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী) – প্রতিপক্ষ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস (২০১২)
২. আলআমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) – প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)
৩. আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) – প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)
৪. ওয়াহাব রিয়াজ (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস) – প্রতিপক্ষ খুলনা টাইটানস (২০১৯)
৫. আন্দ্রে রাসেল (ঢাকা ডায়নামাইটস) – প্রতিপক্ষ চিটাগং ভাইকিং (২০১৯)
৬. মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স) – প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)
৭. শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) – প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)
বিপিএলসহ স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে শরিফুল ছাড়াও আরও সাতজন হ্যাটট্রিক করেছেন।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশিদের যত হ্যাটট্রিক
১. আলআমিন হোসেন (বিসিবি একাদশ) – প্রতিপক্ষ আবাহনী লিমিটেড (২০১৩)
২. আলআমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) – প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)
৩. আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) – প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)
৪. মানিক খান (প্রাইম দোলেশ্বর) – প্রতিপক্ষ বিকেএসপি (২০১৯)
৫. কামরুল ইসলাম রাব্বি (ফরচুন বরিশাল) – প্রতিপক্ষ মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী (২০২০)
৬. আলাউদ্দিন বাবু (ব্রাদার্স ইউনিয়ন) – প্রতিপক্ষ লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ (২০২১)
৭. মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)- প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)
৮. শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) – প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)