ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবৈধ দখলে শত বছরের পুরাতন মহেশ্বরী দীঘিটি পুনরুদ্ধার

4

সোহেল সরকার,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতাঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌরসভার দুইশত বছরের পুরাতন মহেশ্বরী দীঘিটি অবৈধ দখলদারদের থেকে পুনরুদ্ধার করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

শহরের ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া মহল্লার মহেশ্বরী দেবীর বিশালাকৃতির দীঘিটি নামে বেনামে দীর্ঘ বছর যাবৎ দখল হয়ে আছে।

এসব নিয়ে দখলদারদের সাথে এলাবাসী ও পৌর কর্তৃপক্ষের ত্রিমূখী মামলা তৈরি হলেও পাড়বাসীদের সাথে দখলদারদের দীর্ঘ বছরের হামলা মামলা চলতে থাকে। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা তাদের সম্পত্তি মহেশ্বরী দীঘিটি নিজ দখলে নিতে গত ২৭ জুলাই ২০২২ তারিখে  মহেশ্বরী দীঘি পরিদর্শন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আ. কুদদূসসহ পৌর কর্তৃপক্ষের একটি দল।

দীঘির সীমানা নির্ধারণ করে সীমানা পিলার স্থাপন, ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, চারপাশে পায়ে হাঁটার রাস্তা, বসার ব্যাঞ্চ, বৃক্ষরোপণসহ পুকুরটি পাড়বাসিদের ব্যবহারের উপযোগী করার লক্ষ্যে উপস্থিত হন। পুকুরটির উত্তর-পশ্চিমাংশের সাড়ে বার শতাংশ জায়গা এখনো বেদখল রয়েছে যা পৌর কর্তৃপক্ষ দখলে নিতে হিমশিম খাচ্ছে।

অন্যদিকে দীঘির পাড়টি দখল করে ইট, বালু, সুরকী রেখে কেনা বেচা করা হতো।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীঘির উত্তরাংশে কাটা তারের বেড়া দিয়ে মোট ৯টি ব্যাঞ্চ বসানো হয়েছে, দীঘির চারপাশে ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের দুইশতো গাছ লাগানো হয়েছে, দীঘিতে প্রবেশ পথে মহেশ্বরী দীঘি নামে ফটক নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, দীঘির চারপাশে হাঁটার জন্য উন্নতমানের ইট বসানো হচ্ছে।

রিটার্নিং দেয়াল নির্মাণ করা ও পাকা ঘাট নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়।

মহেশ্বরী দীঘির পাড়বাসিন্দা মো. শেকুল ইসলাম জানান, প্রভাবশালী মহলের লোকেরা দীঘিটি দখল নেয়ার জন্য এখানে ঘর নির্মাণ করেছিল এবং বেড়াও দিয়েছিল। আমরা পাড়বাসিন্দা এক হয়ে সেদিন তা প্রতিহত করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় পৌর কর্তৃপক্ষ যখন মহেশ্বরী দীঘি দখলে নিতে আসেন তখন আমরা সেদিনের সেই দখলদারদের মত মনে করেছিলাম।

তাই আমরা প্রথমে তাদের আসাটা ভালভাবে নিতে পারিনি। পরবর্তিতে যখন চারপাশের সৌন্দর্যবর্ধ্বনের কাজ শুরু করেছে তখন বুঝতে পেরেছি পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের দীঘিটি রক্ষা করার জন্য এসেছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাউছার আহমেদ বলেন, মহেশ্বরী দীঘির দখল রোধ করতে জরুরি ভিত্তিতে পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা কাজটি শুরু করেছি। মহেশ্বরী দীঘির চারিপাশে সৌন্দর্যবর্ধ্বনে প্রায় কোটি টাকা খরচ হবে।

শুধুমাত্র প্রাথমিকভাবে দখলরোধ করতে আমরা প্রায় পোনে ছয় লক্ষ টাকা ব্যয় করেছি যা মহেশ্বরী দীঘির কাজে পিপিএ ২০০৬ এবং পিপিআর ২০০৮ আইন রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন অনুস্মরণের ক্ষেত্রে কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আ. কুদদূস মুঠোফোনে জানান, মহেশ্বরীদিঘির দখল মুক্ত হওয়া ভূমি জরুরি ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গাছ লাগানো, বসার ব্যাঞ্চি, ওয়াকওয়ে, সেফটি গেট নির্মাণ কাজে পিপিআর -২০০৮ অনুসরণ করা হয়েছে। পৌরসভার নিজস্ব ফান্ড থেকে এ কাজটি শুরু করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। যারা বলছেন, টেন্ডার হয়নি, তারা হয়তো সরকারি ক্রয়ের বিভিন্ন মেথড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন অথবা বলার জন্য বলেন।

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে৷

বর্তমান অর্থবছরে ইতোমধ্যে ১১টি বড় বড় রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে৷

আরও অন্তত ১১টি রাস্তার টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাই পৌরসভা পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মহেশ্বরী দীঘিতে কত ব্যয় হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক কাজে এক অর্থবছরে এই পদ্ধতিতে ৬ লাখের বেশি খরচ করা যায় না।