
ডেস্ক রিপোর্ট:
আগামী ৯ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এতে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হয়েছে কিছু বিশেষ নির্দেশনা। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ইতিমধ্যেই নিজেদের ওয়েব সাইটে পরীক্ষার সময়সূচিসহ রুটিন প্রকাশ করেছে ।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন থেকে প্রকাশিত বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা ও নম্বর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো হলো-
১. প্রার্থীর জন্য প্রযোজ্য (সাধারণ ও কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডার) বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা আবশ্যক
২. লিখিত পরীক্ষায় গড় ন্যূনতম পাস নম্বর হবে ৫০ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষায় কোন বিষয়ে ৩০ শতাংশের কম নম্বর পেলে সেই নম্বর মোট নম্বরের সাথে যোগ হবে না।
৩. সাধারণ ও কারিগরি বা পেশাগত উভয় ক্যাডারের প্রার্থী কিংবা শুধু কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের প্রার্থীদের কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডার সংশ্লিষ্ট পদ বা সার্ভিসের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে (জব রিলেটেড) ২০০ নম্বরের ৪ ঘণ্টা সময়ের একটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
৪. উত্তরপত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে না লিখলে এবং সঠিকভাবে বৃত্ত পূরণ না করলে, অথবা কোন রকম কাটাকাটি করলে বা ফ্লুইড ব্যবহার করলে ৪৫তম বিসিএস, পরীক্ষা ২০২২ এর বিজ্ঞাপনের ৩৩.২ নম্বর অনুচ্ছেদের শর্তানুযায়ী প্রার্থিতা বাতিল হবে।
৫. প্রার্থীর নামে নতুন করে কোন প্রবেশপত্র জারি করা হবে না। প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) টেস্টের জন্য প্রাপ্ত প্রবেশপত্র লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত হবে। প্রবেশপত্রে মুদ্রিত নির্দেশনা পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে।
পরীক্ষার হলে নিষিদ্ধ সামগ্রীসহ প্রবেশরোধ এবং অসদুপায় ও অসদাচরণ বন্ধে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক:
১. মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি, পকেট ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ঘড়ি, সকল ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগযন্ত্র, বই-পুস্তক, ব্যাগ, মানি ব্যাগ, ব্যাংক কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ক্যালকুলেটর ব্যতীত পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। গাণিতিক যুক্তি (আবশ্যিক) বিষয়ের জন্য কেবল সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে কেবল গণিত, ফলিত গণিত, পদার্থবিদ্যা, ফলিত পদার্থ, ইলেকট্রনিক্স, হিসাব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, কম্পিউটার সায়েন্স, পরিসংখ্যান ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে নন প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।
২. পরীক্ষার হলে প্রার্থীরা গহনা-অলংকার জাতীয় কিছু ব্যবহার এবং ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক কার্ড অথবা এ ধরনের কোন কিছু বহন করতে পারবেন না। পরীক্ষা হলের গেটে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশের উপস্থিতিতে কমিশন ঘোষিত নিষিদ্ধ সামগ্রীর প্রবেশ রোধে মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে তল্লাশি করা হবে এবং প্রবেশপত্র চেক করে প্রার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কক্ষে কোন প্রার্থীর নিকট বর্ণিত নিষিদ্ধ ঘোষিত সামগ্রী পাওয়া গেলে বিজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী তা বাজেয়াপ্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। উক্ত প্রার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩. পরীক্ষার সময় প্রার্থীরা মুখ ও কানের ওপর মাস্ক ব্যতীত কোন আবরণ রাখবেন না।
8. পরীক্ষায় যে কোন অসদুপায় অবলম্বনের জন্য প্রার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করা হবে। উল্লেখ্য, কোন প্রার্থী পরীক্ষায় নকল করলে বা অন্য কোন অসদুপায় অবলম্বন করলে বা কোন অসদাচরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, তাকে ভবিষ্যতে কমিশন কর্তৃক গৃহীত কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না এবং কমিশন কর্তৃক বিজ্ঞাপিত অন্য কোন পদের জন্য তিনি আবেদন করতে পারবেন না।
৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী ক্ষেত্র বিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ফৌজদারি আইনে সোপর্দ করা যাবে এবং সার্ভিসে নিয়োগের পর কোন প্রার্থীর ক্ষেত্রে এরূপ তথ্য প্রকাশ ও তা প্রমাণ হলে তাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ যে কোন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিটি হলের প্রতিটি কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। তাই যে কোন ধরনের অসদুপায় অবলম্বণ বা গ্রহণ থেকে প্রার্থীদেরকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন।