
ডেস্ক রিপোর্ট :
সারা দেশের থানা আদালত এলাকায় জব্দকৃত মালামাল বছরর পর বছর পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব জব্দ কৃত মালামাল দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকায় পরে সেটা রাষ্ট্রেরও কোন কাজে লাগে না আর মালিকেরও কাজে লাগে না। এসব জব্দকৃত মালামালের মধ্যে বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র আছে।
সারাদেশের থানাগুলোর সামনে, ডাম্পিং স্টেশনে ও আদালত প্রাঙ্গনে যে সমস্ত মামলার আলামত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে সেগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। দুই মাসের মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শককে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি জানান, সারাদেশের থানাগুলোর সামনে, ডাম্পিং স্টেশনে ও আদালত প্রাঙ্গনে যে সমস্ত মামলার আলামত সংরক্ষিত আছে অরক্ষিত অবস্থায় সেগুলোর রিপোর্ট সংগ্রহ করে আগামী দুই মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২২ সালে এ বিষয়ে ৫ আইনজীবী রিট করেন। রিটের পর ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন।
রুলে মালখানা ও থানায় অনিরাপদভাবে থাকা জব্দ মালামাল সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়েছেন। আইন সচিব, জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ডিএমপি কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
২০২২ সালে রিটের পর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছিলেন, ঢাকাসহ দেশের সব আদালত ও থানা এলাকায় জব্দ করা মালামাল বছর বছর পড়ে থাকতে দেখি। এসব মালামাল নিয়ে এমন অব্যবস্থাপনা সারা দুনিয়ার আর কোথাও আমরা দেখিনি। জব্দ করা মালামাল এভাবে বছর বছর পড়ে থাকার পরে সেটা রাষ্ট্রেরও কাজে লাগে না আর মালিকেরও কাজে লাগে না।
বিষয়টি দেখে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও তাদের কোনো জবাব আসেনি। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছি।
আমরা দেখেছি, জব্দকৃত মালামালের মধ্যে বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র আছে। জব্দকৃত মালামাল নিয়ে এমন অব্যবস্থাপনা সারা দুনিয়ার আর কোথাও আমরা দেখিনি। তাই এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে নোটিশে জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয় বলেও আইনজীবী জানান।
রিটকারি পাঁচ আইনজীবী হলেন- মোহাম্মদ নোয়াব আলী, মো. মুজাহেদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, জি এম মুজাহিদুর রহমান (মুন্না) ও ইমরুল কায়েস।