
বরগুনার বেতাগীতে হাড় কাঁপানো শীত ও তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। জেঁকে বসেছে ঘন কুয়াশাও। চার দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। সেই সঙ্গে তীব্র লোড শেডিং ও বইছে মৃদু হিমেল বাতাস।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শীত মৌসুমেও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না এখানকার বাসিন্দারা। শীতে বিদ্যুতের চাহিদা কমলেও হঠাৎ করে বেড়েছে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা। গত শনিবার থেকে তিন দিন ধরে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এর সঙ্গে রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় যার ফলে আরও বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে।
প্রচন্ড শীত ও তীব্র লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক কর্মজীবনে নেমে এসেছে অনেকটাই স্থবিরতা। এমন আবহাওয়া আরও দু-একদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস। আগের তিন দিনের মতো সোমবারও সকাল থেকেই কুয়াশাচ্ছন্ন রয়েছে বেতাগী শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।
সেই সঙ্গে মৃদু হিমেল বাতাস বয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক শ্রমজীবী মানুষ। প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে খেটে খাওয়া মানুষ কাজের উদ্দেশে বের হলেও তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না।
এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে আভন্তরীণ ও আঞ্চলিক সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
বেতাগী পৌর এলাকার বাসিন্দা মো: শাহীন বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে দিন-রাতে সমান হারে ৫/৭ বার করে বিদ্যুৎ যাচ্ছে। প্রতিবার এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। শীত মৌসুমে এমন লোডশোডিং আগে কখনও হয়নি।’
ভাই ভাই কম্পিউটার ও ফটোষ্ট্যাটের সত্তাধিকারী রবেল মল্লিক বলেন, ‘এখন শীত মৌসুমেও তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায় একেবারে মন্দা যাচ্ছে। রাতের কথাতো বাদই দিলাম দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে কোনো কাজ করতে পারছি না।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বেতাগী এরিয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বরগুনায় গ্রিড লাইনে কাজ চলায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ মিলছে না। এতে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেন সংশ্লিষ্টররা। তবে একই কার্যালয়ের প্রকৌশলী আবুল বাসার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,‘খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।’
উপজেলা কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানজিলা আহম্মেদ বলেন,গত কয়েক দিন হলো সূর্যেরও দেখা নেই। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছো। এর ফলে কৃষিতেও ক্ষতি হবে।