
শফিকুল ইসলাম, রায়পুরা প্রতিনিধি :
নরসিংদী রায়পুরা পৌরসভার থানাহাটি এলাকার মৃত আঃহাসিমের ছেলে হাজী মোঃআবুল কাশেম উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের নূরমহল তার স্বামী ছাদেক মিয়া গংদের বিরুদ্ধে ক্রয়কৃত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় হাজী মোঃআবুল কাশেম এর ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল ও বুঝিয়ে দিতে বললে বিভিন্ন পায়তারা ও জালিয়াতি করে হয়রানি করার প্রবল প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে এবং ক্রয়কৃত সম্পত্তি বঞ্চিত ভুক্তভোগী পরিবারে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশ।
শনিবার(২১অক্টোবর) সরেজমিনে ও অভিযোগসূত্রে জানা যায়, চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের শ্রীনিধী মৌজার আর.এস ১৯০৭ খতিয়ানে ৪টি দাগে ছাদেক মিয়া নিজ ০৯ শতাংশ সম্পত্তি মালিক।বিগত ২৫/০৫/১৭ ইং তারিখে ৪৬৮৬/১৭ নং দলিল হিসেবে ছাদেক মিয়া তার স্ত্রী নূরমহলকে রায়পুরা সাব-রেজিস্টার অফিসে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে নূরমহল বেগম বাড়ী ও নালসহ ০৯ শতাংশ সম্পত্তি মালিক হন।পরর্বতীতে উক্ত নূরমহল বেগম বিগত ১৫/০২/২৩ ইং তারিখে ১৬৯৭/২৩ নং দলিল হিসেবে বাড়ী ও নালসহ ০৯ শতাংশ হাজী মোঃআবুল কাশেম ক্রয়সূত্রে রায়পুরা সাব-রেজিস্টার অফিসে রেজিস্ট্রি করেন এবং তার স্বামী ছাদেক মিয়া ২(দুই)মাসের সময় দেওয়ার জন্য ৩০০/(তিনশত)টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি লিখিত অঙ্গীকারবদ্ধ হন।
অঙ্গীকার মোতাবেক ২(দুই)মাস অতিক্রম করার পর বিগত ২৫/০৪/২৩ ইং হাজী মোঃআবুল কাশেমের ক্রয়কৃত সম্পত্তি নিজ নামজারী আবেদন করতে গেলে চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে লোক মারফতে জানে গোপনে নূরমহল বেগমের স্বামী ছাদেক মিয়ার নিজ নামজারী ভূয়া খারিজ করতে জানতে পারলে চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বাদী হয়ে ছাদেক মিয়া ও তার স্ত্রী নূরমহল বেগম এর বিরুদ্ধে খারিজ বাতিলের জন্য আবেদন করেন।বিবিধ মোকদ্দমা নং -১৭৯/২৩,আর.এস.খারিজা খতিয়ান নং-১৯০৭। আরও দুই(০২)মাস যাওয়ার পর আগামী তিন(০৩)মাসের ভিতর খারিজ বাতিল করে চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গত ১৩/০৯/২৩ ইং হাজী মোঃ আবুল কাশেমকে নামজারী খারিজ প্রদান করেন।যার খতিয়ান নং-১৯৬২,২নং রেজিস্টার অনুযায়ী হোল্ডিং নং ২৩৩১।
ভুক্তভোগী হাজী মোঃ আবুল কাশেম বলেন,আমি আমার পরিবার নিয়ে বিভিন্ন হয়রানি ও হতাশায় জীবন-যাপন দিন কাটাচ্ছি।নূরমহল বেগমের স্বামী ছাদেক মিয়া এর গংরা আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল করে আছে। ক্রয়কৃত সম্পত্তি আমাকে দখল দিচ্ছে না। প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।তিনি আরও বলেন,আমি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি ফিরে পেতে আইনের আশ্রয় নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তে মাধ্যমে দ্রুত প্রশাসনের সহযোগিতায় আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল ও ফেরত পাওয়ার কামনা করছি।
তাছাড়া আমি সাংবাদিক বান্ধব মানুষ ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর নিবেদিত একজন কর্মী।সাংবাদিক হচ্ছে সমাজের আয়না।সাংবাদিকদের উপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে।স্থানীয় সাংবাদিকরা লোকমুখে ঘটনার বিষয়ে অবহত হয়ে ঘটনার স্থানে উপস্থিততে সত্যতার বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যাদি সংগ্রহ করে থাকেন।
ক্রয়কৃত সম্পত্তি আদায় করা কি অপরাধ?রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি এবং সচিব ভূমি মন্ত্রণালয়,দুদক মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার ঢাকা বিভাগ, নরসিংদী জেলা প্রশাসক,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রায়পুরা থানায় আমার লিখিত অভিযোগের অনুলিপিটি প্রেরণ করি।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি আইন অপরাধ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৪নং ধারা মোতাবেক আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে নূরমহল বেগমের স্বামী ছাদেক মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তা তিনি রিসিভ করেননি।তাছাড়া তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পাওয়ায় উনার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।