পূর্বশত্রুতার জের ধরে বরিশালের মুলাদী এলাকায় চাঞ্চল্যকর রুবেল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত পলাতক আসামী আরিফ’কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটিলিয়ন র্যাব-(১০)। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৭জানুয়ারি) র্যাব ১০ এর অপ্স অফিসার উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আমিনুল ইসলাম জানান, গত ৩ জানুয়ারি বরিশাল জেলার মুলাদীর টুমচর এলাকায় বসবাসকারী রুবেল শাহ তার স্ত্রী, কন্যা ও ছেলেকে নিয়ে তাদের বাড়ীর পাশে জাগরনী বাজারে বাজার করার উদ্দেশ্যে রওনা করে। আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে মুলাদী থানার টুমচর এলাকার একটি পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা আরিফ আকনসহ ২৪ থেকে ৩৫ জন লোক পূব শত্রুতার জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রুবেলের উপর অতর্কিত আক্রমক করে। এসময় তারা রুবেলের স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে আটকে রাখে এবং ভিকটিম রুবেলকে ঝাপটে ধরে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপাতি ও রাম দা দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে কোপাতে থাকে।
একপর্যায় রুবেলের স্ত্রী ও মেয়ের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসলে আরিফসহ অন্যান্য আসামীরা রুবেলের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে রুবেলকে কেউ বাচাতে আসলে বা মামলা মোকাদ্দমা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে রুবেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে রুবেলের স্ত্রী ও সন্তানরা স্থানীয় লোকজনদের সহযোগীতায় রুবেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভ্যান যোগে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী কালকিনি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেল মৃত ঘোষনা করেন।
এ ঘটনায় মৃত রুবেলের স্ত্রী মোছা. নার্গিস বেগম বাদী হয়ে বরিশাল জেলার মুলাদী থানায় চাঞ্চল্যকর রুবেল শাহ্ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আরিফ আকনসহ ৩৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী আরিফ আকনকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৬ জানুয়ারি রাতে আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রুবেল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত পলাতক আসামী আরিফ আকন (৩০),’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামী হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে মামলা রুজুর পর থেকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল বলে জানা যায়।
ডিআই/এসকে