
আজ মঙ্গলবার সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেবাপ্রত্যাশীদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সেবাপ্রত্যাশীরা জানান, বরিশাল পাসপোর্ট অফিসে আবেদনপত্র গ্রহণে অযথা হয়রানি, ভুল নির্দেশন দিয়ে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘোরানো, অফিসের বাইরের নির্ধারিত দোকান থেকে আবেদন করাতে বাধ্য করা এবং দালালদের দৌরাত্ম্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বরিশাল পাসপোর্ট অফিসে দালাল ছাড়া কাজ করা প্রায় অসম্ভব। সব সময় হয়রানির শিকার হতে হয়। পাসপোর্টে কোন ধরনের ভুল ত্রুটি থাকলে এই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কী কী কাগজপত্র দরকার একসঙ্গে তা কখনোই বলেন না। বারবার সময়ক্ষেপণ করতে মূলত দালালের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করার জন্য। এক একটি পাসপোর্ট করতে সরকার নির্ধারিত ৫,৭৫০ টাকার ফির চেয়ে অতিরিক্ত আরো বাড়তি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা বেশি দিতে হয় ।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী বাসুদেব, আনসার সদস্য রফিক ও সৌরভকে উপ-পরিচালক আবু নোমান মো. জাকির হোসেনের কক্ষে অভিযোগের মুখোমুখি ও পাসপোর্ট অফিসে পাওয়া অনিয়মের বিষয় উত্থাপন করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক এইচএম আক্তারুজ্জামান বলেন, “দুদক হেডকোয়ার্টার থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযানে আমরা এসেছি। একজন সেবাগ্রহিতা বরিশাল পাসপোর্ট অফিসের বিরুদ্ধে, এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের দৌরাত্ম্য, হয়রানি, পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ দিলে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। আমরা অনিয়মের চিত্র দেখতে পেয়েছি। এখানে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনিয়ম রোধে সেবাপ্রত্যাশীদের সচেতন করেছি, পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বরত যুগ্ম-পরিচালককে পরামর্শ দিয়েছি অনিয়ম বন্ধে তিনি যেন কার্যকর ভূমিকা রাখেন। যুগ্ম পরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে আরও কঠোর হবেন।”
আজ মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে দুদক বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এইচএম আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে ঘন্টা খানেকের বেশি সময় ধরে চলা এ অভিযান পরিচালনা করার সময় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে আসা একাধিক সেবাপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলেন দুদকের কর্মকর্তারা।