ভূরুঙ্গামারীতে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্র সচিব সহ আটক ০৩

15

।উপজেলা প্রতিনিধি ভুরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চার বিষয়ের পরিক্ষা স্থগিত করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।এদিকে পাঁচ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অন্যতম সহযোগী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আসামি না করায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। থানায় প্রশ্ন বাছাইয়ের (সর্টিং) সময় ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ঐ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার আব্দুর রহমানের যোগসাজসে বাংলা ১ম পত্রের প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের ভিতর বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্রের একটি করে খাম ঢুকিয়ে নেন এবং প্যাকেট সীলগালা করে তার ওপর স্বাক্ষর করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষার দিন যথানিয়মে থানা থেকে বাংলা ১ম পত্রের প্যাকেট এনে তা খুলে বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্রের খামটি কৌশলে সরিয়ে ফেলেন। এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার বোর্ডের দেয়া তালিকা অনুযায়ী পাঠানো প্রশ্নেপত্রের খাম গণনা করার নিয়ম থাকলেও তারা দায়িত্ব অবহেলাও গাফিলতির করে তা করেননি। পরে প্রধান শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষকের সহায়তায় ফাঁস করা প্রশ্নপত্রের উত্তরমালা তৈরি করে ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে (চুক্তিভিত্তিক সবসেট) ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করেন। প্রশ্নফাঁসের ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে এলে বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হলে তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। পরে ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাসের বিষয়টি নজরে এলে নরেচড়ে বসেন প্রশাসন ও পুলিশ। ২০ শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষা দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার দেব শর্মা, সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান, ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অভিযান চালিয়ে গণিত, কৃষি বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়নের প্রশ্নপত্র উদ্ধার করেন । এই বিষয়গুলোর পরীক্ষা এখানো হয়নি। পরে বিকালে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এবং কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এর পর রাতে কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলেও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে ইংরেজি শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক জোবায়ের হোসাইনকে গ্রেপ্তার করে এবং বুধবার ভোরে হামিদুল ইসলাম, সোহেল আল মামুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।মামলার অপর আসামি ক্লার্ক আবু হানিফ পলাতক রয়েছেন। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, দিনাজপুর বোর্ডের শিক্ষাসচিব প্রফেসর জহির উদ্দির উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তারা অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বা ব্রিফিং করে দ্রুত তারাহুরা করে স্থান ত্যাগ করেন।এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান (বিপিএম)জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তাদেরকে কোর্টে চালান করা হবে। মামলার তদন্ত চলছে। আর কারো সম্পৃক্ততা থাকলে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে।তবে প্রকৃত দোষিকে বাদ দিয়ে সহযোগিতা কারীদের বিরোদ্ধে মামলা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বাসী।এদিকে ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরের অধীনে চলমান এসএসসির চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করেছে শিক্ষা বোর্ড।স্থগিত করা বিষয়গুলো হলো- গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান এবং রসায়ন।২১ সেপ্টেম্বর বুধবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো যাচ্ছে যে, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২২ সালের চলমান এসএসসি পরীক্ষার গণিত (১০৯), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), কৃষিবিজ্ঞান (১৩৪) এবং রসায়ন (১৩৭) বিষয়ের পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিতকৃত বিষয়গুলোর পরীক্ষার তারিখ যথাসময়ে জানানো হবে।স্থগিতকৃত বিষয়গুলো ব্যতিত অন্য সকল বিষয়ের পরীক্ষা রুটিনে উল্লিখিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।