বাসের চরম দূর্ভোগে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা

9

আকবর চৌধুরী ক্যাম্পাস প্রতিনিধি,:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৯ সালের ১১ নভেম্বর যার অবস্থান পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে। প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল কায়েদ-ই- আজম কলেজ যা বর্তমানে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।সরকারি সাত কলেজের ছয়টি ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য নিজস্ব বাস থাকলেও সোহরাওয়ার্দী কলেজে যাতায়াতের জন্য কোন বাস নাই। সোহরাওয়ার্দী কলেজে উচ্চমাধ্যমিক,স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সব মিলিয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৭০০০ হাজার।সাত কলেজের বাসের পরিসংখ্যানে যদি দেখা যায় তাহলে প্রথমেই আসে তিতুমীর কলেজ ০৯টি, দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা কলেজ ০৮ টি, তৃতীয় অবস্থানে যথাক্রমে ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজ ০৪ টি , চতুর্থ অবস্থানে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ০২ টি এবং সর্বশেষ বাঙলা কলেজ ০১ টি।এদিকে সোহরাওয়ার্দী কলেজে বাস না থাকায় যাতায়াতের জন্য চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্র- ছাত্রীরা ক্লাস করতে এসে চরম দূর্ভোগের শিকার ।দূর্ভোগের শিকার জোবাইদা আমান লিজা জানান,আমি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে নিয়মিত ক্লাস করতে আসি। সকালেআমি বাসা থেকে অটো রিক্সা করে নদীর ঘাট পর্যন্ত যাই। তারপর নদী পার হই। সেখান থেকে একটা বাসে করে নতুন বাজার যাই। পরে নতুন বাজার থেকে বাসে করে সদরঘাট যাই। আবার সেখান থেকে হেঁটে কলেজ পর্যন্ত আসি। পরে আরো বলে আমার যাতায়াত করতে খুবই সমস্যা হয়, আসা যাওয়া মিলিয়ে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘন্টা ব্যায় হয়। ক্লাস করার জন্য সকাল ৬ টায় বের হই এবং ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরতে রাত ৮ টা বেজে যায়।গাজীপুর আসা দূর্ভোগের শিকারএক শিক্ষার্থী জানান, অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের মধ্যে আমাদের কলেজ সব দিক থেকে অবহেলিত। বাকি ছয়টি কলেজ বাস থাকলেও আমাদের কলেজে নাই। বাস না থাকায় প্রতিদিন ক্লাস করতে পারি নাহ। একদিন ক্লাস করতে আসলে বাসায় যেয়ে খুবই ক্লান্ত হয়ে যায়। আসা- যাওয়া করতে জ্যামযটের জন্য অনেক সময় লেগে যায়।সাভার থেকে ক্লাস করতে আসা শিক্ষার্থী ফিওনা এষা সরকার জানান, বাসওয়ালারা হাফ ভাড়া নিতে চায় না স্টুডেন্ট আইডি কার্ড দেখানো হলেও দূর্ব্যবহার করে। মেয়ে শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে বাসে নিতেও আপত্তি করে, দাঁড়িয়ে ধাক্কা কিংবা ঠেলাঠেলি করে আসতে হয়। অনেক সময়, ঠিক জায়গায় নামাতেও ঝামেলা করে। সে আরোও জানান যে , প্রতিদিন আসা যাওয়া করতে প্রায় সময় লাগে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা।ক্যাম্পাসের আরো অনেক স্টুডেন্টদের যাতায়াতের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তাদের থেকে জানা যায়, আমরা অনেকেই উত্তরা, খিলগাঁও, বাড্ডা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর থেকে যাতায়েত করি। ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাস না থাকায় রাস্তায় অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে রাস্তায় যানযটের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয়। রাস্তায় যানযটের কারণে অনেকে ঠিক সময়ে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারে না। আবার অনেকে পরীক্ষা কিংবা ল্যাব ক্লাস থাকলে আসতে দেরী করে ফেলে শুধু ফিরে । এমনও দিন কেউ কেউ সকাল ৯ টার ক্লাস করার জন্য সকাল ৬ টায় বাসা থেকে বের হয়েও ক্লাসে এসে দেখে ক্লাস শেষ হয়ে গেছে। উক্ত বিষয়ে আরো জানান শিক্ষার্থীদের মাঝে মধ্যে হাফ ভাড়া নিয়ে বাস হেলপারদের সাথে তর্ক-বির্তকে জড়াতে হয়। আবার অপমান, লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়।এই বিষয়ে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ জনাব, মোঃ মোহসিন কবির স্যার কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,দেশের প্রতিটা কলেজেই কি বাস আছেঅবশ্যই বাস নাই! আর আমাদের সকল সমস্যার মূল জায়গার সংকট। ক্যাম্পাসে যদি ২ টি বাস আনা হয় তাহলে ২টা চালক,২ টা হেল্পপার লাগবে। গাড়ি রাখার জন্য একটা গ্যারেজ তৈরী করতে হবে। কিন্তু এখানে গ্যারেজ তৈরী কারার মতো কোন জায়গা নাই।ক্যাম্পাসে বাস আনলে হয়তো ৩০শতাংশ স্টুডেন্টস যাতায়াতে কাভার হবে কিন্তু বাকি ৭০ শতাংশ কি ভাবে কাভার হবে?২টি বাস আপনি কোন রুট রেখে কোন রুটে চলাচল করাবেন!বাস আনলে ছাত্র- ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দেওয়া লাগবে।অনেকেই ক্যাম্পাসের আশেপাশের মেসে থাকে তারা বলবে আমরা তো বাসে চড়ি নাহ, তাহলে আমরা কেন চাঁদা দিব। এসব দিকও আমাদের বিবেচনা করতে হবে। আর আমাদের আগেজায়গার সংকট নিরসন করতে হবে। এই জায়গার সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত কোনকিছুই করা সম্ভব হচ্ছে নাহ। “এদিকে শিক্ষার্থীরা অন্যান্য কলেজের মতো সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজেও বাস চায়।