
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই ঘোষণা হতে পারে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল। সর্বশেষ ২০১৯ সালে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে বিভাগওয়ারি ৪টি ধাপে এবং যেসব উপজেলার মেয়াদ পরে পূর্ণ হয়েছিল সেগুলো নিয়ে আরেকটি ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল। এবারের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ প্রথম ধাপের নির্বাচন পাঁচটি ধাপে আয়োজন করতে চায় নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। যার নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে। যেসব উপজেলায় সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে সেসব উপজেলায় নির্বাচন হবে পরে।
৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে প্রায় দুশোর অধিক উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচনে গতবারের মতো এবারও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে কয়টি উপজেলা নির্বাচন হবে সেই বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নির্বাচন কমিশনের সভায়। রমজান শুরুর আগেই প্রথম ধাপের নির্বাচন এরপর পরবর্তী নির্বাচন সম্পূর্ণ করা হবে।
ইসি সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকারের বিভাগ। বস্তুত গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে উপজেলা পরিষদই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য, পরিষদের প্রথম বৈঠক থেকে মেয়াদ শুরু হয়। উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। ১৯৮৫ সালে প্রথমবারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে বর্তমান পদে অধিষ্ঠিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের পদত্যাগ করতে হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার, জেলা পরিষদের সদস্য, পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের পদত্যাগ করতে হবে। এছাড়া অনেক কলেজ সরকারি হয়েছে কিন্তু সেখানে যারা চাকরি করেন, তারা এখনও সরকারি হননি। তাদেরও উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করতে হলে চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।