
শীত এলেই প্রতিবছর দ্বীপ জেলা ভোলাসহ উপকূলের চরাঞ্চলে পরিযায়ী পাখি এসে জড়ো হতে শুরু করে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জেলার বিভিন্ন চরে অতিথি পাখিরা এসে জড়ো হতে শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে অনেক বিপন্ন পাখি। বাংলাদেশে পাখিদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের একটি ভোলা। তবে এ বছর ভোলায় আসা পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আগের তুলনায় কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাবারক্ষেত্র ও প্রজননক্ষেত্র নষ্টের পাশাপাশি শিকারিদের দৌরাত্ম্য এজন্য দায়ী বলে মনে করছেন পাখি পর্যবেক্ষক ও গবেষকরা। তাদের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩৬.৫ শতাংশ কম পাখি উপকূলে এসেছে।
চলতি বছরের ২ থেকে ১০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে ভোলায় জলপাখি গণনা করতে আসা সদস্যদের দলীয় প্রধান সায়েম ইউ চৌধুরী জানান, ১৯টি কাঁদাচরসহ ৪৪টি স্থান পর্যবেক্ষণ করে তারা এ বছর মোট ৬২ প্রজাতির ৩৪ হাজার ৩১২টি পাখি গণনা করেছেন ভোলায়, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬.৫ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ৬৫ প্রজাতির ৫৪ হাজার ১৮০টি পাখি গণনা করেছিলেন তারা।
তিনি আরও জানান, এ বছর উপকূলে আসা উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মধ্যে একটি মহাবিপন্ন চামচ-ঠুঁটো বাটন এবং ছয়টি বিপন্ন বড় নট পাখির দেখা মিলেছে গাঙ্গুইরার চরে। টেগরার চরে একটি দুর্লভ বৈকাল হাঁসের দেখা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আন্ডার চরে একসঙ্গে ৩ হাজার ২৮৬টি পাতি চখাচখি দেখা গেছে। পাশাপাশি দেখা মিলেছে ১ হাজার ২০০টি বিপন্ন প্রজাতির দেশি গাংচশা, মেটে-মাথা টিটি হাঁস ১ হাজার ১০টি এবং ৯০০টি ধূসর রাজহাঁসের।
বন্য প্রাণী গবেষক ও পাখি পর্যবেক্ষক সামিউল মেহেসনিন জানান, শীত এলেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এসে জড়ো হয় ভোলার চরাঞ্চলে। আর প্রতিবছর এসব পাখির মাঝে এসে ভিড় করে পৃথিবীর মহাবিপন্ন কিছু পাখি। বিশ্বের বহু বিপন্ন পাখির টিকে থাকার জন্য ভোলা অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাখি পর্যবেক্ষক ও পর্বত আরোহী এমএ মুহিত ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর ভোলায় পাখিশুমারি করে আসছেন। তিনি জানান, ভোলার চরগুলোতে চার ধরনের বিরল পাখির দেখা মেলে। এগুলো হলো মহাবিপন্ন, বিপন্ন, প্রায় বিপন্ন ও সংকটাপন্ন। যে দেশে যত বেশি পাখি আসে সে দেশের প্রকৃতি তত নির্ভেজাল। যেহেতু পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখিরা তাদের আসার জায়গা হিসেবে ভোলার এসব চরাঞ্চল বেছে নিয়েছে, সেহেতু দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার জন্য সরকারের উচিত এসব জায়গা সংরক্ষণ করা। বিশেষ করে, এসব চরে মানুষ যাতে অবাধে বিচরণ করতে না পারে।
তিনি বলেন, আইন করে পাখিদের রক্ষা করা যাবে না। এজন্য মানুষকে সচেতন করতে হবে। অনেকে জানেও না যে পাখি মারা অপরাধ। তাই আমরা পাখি রক্ষায় বার্ড ক্লাবের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছি।