আজ শুর হচ্ছে বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটির ২২ তম বার্ষিক প্রদর্শনী

34

সকালের খবর ২৪ ডেক্স:
সৌন্দর্য ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের শখের বিলাস বনসাই
গাছ মানেই বিশাল। যতটা সম্ভব আকাশের দিকে উঠে যাওয়া। কিন্তু বনসাই অন্যান্য গাছের চাইতে কিছুটা আলাদা প্রকৃতির। এই গাছ লম্বায় অনেক ছোট হয়। অনায়াসে ঘরে ও বারান্দার টবে রাখা যায়। শহুরে মানুষ এই বনসাই বৃক্ষের সৌন্দর্যের কাছে নত। শৈল্পিকবোধ আর বুদ্ধি দিয়ে শহরের মানুষ বনের গাছটিকে মনের করে নিচ্ছেন। মানুষের মনের জগৎকে সাজিয়ে তুলতে প্রকৃতির কোনো জুড়ি নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ছাড়াও মানুষের সৌন্দর্য চেতনা গঠনে বৃক্ষ, লতা, পুষ্পের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। জৈন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধ্যান মগ্নতার মধ্য দিয়ে বনসাইয়ের সৃষ্টি। এরা মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে সেতু বন্ধন রচনায় আগ্রহী। সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ তার পরিশ্রম মেধা কল্পনা অনুযায়ী শিল্পকলার চর্চা করে আসছে। একে কেন্দ্র করেই গাছকে মূল উপাদান ধরে বনসাই নামের জীবন্ত শিল্পকর্মের সৃষ্টি। এই শিল্পকর্মটিকে আমাদের দেশে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বনসাই সৌন্দর্য ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের শখের বিলাস, অফিস ও ফ্লাটবাসায় দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বনসাই। সোসাইটির আয়োজিত প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে মানুষের নান্দনিক রুচিবোধ গড়ে উঠেছে। একটি বনসাই পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। সাধারণত গাছভেদে বনসাইয়ের দাম ২ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিভিন্ন নার্সারীতে এসব গাছ পাওয়া যায়। এছাড়া বৃক্ষ মেলায় অহরহ দেখা যায় বিক্রি করতে।
বনসাই অর্থ ট্রের মধ্যে ফলানো। শক্ত কান্ড রয়েছে এমন গাছের খর্বাকৃতি করার শিল্পকে বনসাই বলা হয়। বনসাই তৈরিতে নান্দনিকতার ছোঁয়া থাকে। বনসাই শব্দটি জাপানী; চীনা পেনজাই শব্দ থেকে বনসাই শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় পাত্রে/ টবে গাছের বিভিন্ন ধরনের চারা জন্মানোর কথা জানা যায়। ৪০০০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে পাত্রে গাছ লাগানো হত। এরকম তথ্য সে সময়কার রাজনৈতিক নথিপত্র ঘেটে জানা যায়। ঐ সময়ে পাথর কেটে পাত্র তৈরী করে সে পাত্রে গাছ লাগানো হত। তৃতীয় ফারাও রামেসেস পাত্রে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়ে অনেক মন্দিরে দান করেছিলেন। প্রাচীন কালে ভারতে টবে পাত্রে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানোর প্রচলন ছিল। সে সময়ে ঔষধ ও খাবারের জন্য পাত্রে গাছ লাগানো হত। এক হাজার বছর আগে চীনে এর প্রচলন শুরু হলেও দ্বাদশ শতাব্দীতে জাপানীদের নান্দনিক ছোঁয়ায় এটি শিল্পে পরিণত হয়।

ঢাকা শহরের লোকসংখ্যা অনুপাতে যে পরিমাণ গাছ থাকার কথা তার ১ ভাগের উপস্থিতি থাকলেও মানুষের জন্য অন্তত সুবিধা হতো। তার ওপর যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও ইন্ডাস্ট্রি বর্জ্যর কারণে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি ও বাতাস। সব মিলিয়ে দিন দিন বাড়ছে ঢাকার বাতাসে সিসার পরিমাণ। নগরবিদদের ধারণা, সহসাই এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে না পারলে মহাসংকটে পড়বে ঢাকা শহর। পরিবেশ বিপর্যয় রোধে পৃথিবীর দেশে দেশে নগর পরিকল্পনায় যোগ হচ্ছে প্রকৃতির অংশগ্রহণ। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি। বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটির কয়েকটি প্রদর্শনী খুব কাছে থেকে দেখেছি। গাছ প্রস্তুত থেকে শুরু করে প্রতিটি গাছের পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও যতœ চলে সারা বছর ধরে। তাই বছর জুড়েই থাকে বনসাই শিল্পীদের কমবেশি ব্যস্ততা। বর্ষাকালে গাছপালার শাখা-প্রশাখা এমনিতেই পাতা পল্লবে ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে উঠে। এমনই অপরূপ সৌন্দর্যের আধার নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের চারুকলায় বনসাই প্রদর্শনী । বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বনসাই শিল্পীদের সংখ্যা যেমন দিন দিন বাড়ছে তেমনি বনসাইয়ের প্রতি বাড়ছে সাধারণ মানুষের আগ্রহও।

দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশ বনসাটির ২২ তম বার্ষিক প্রদর্শনী। এ প্রদর্শনী শুরু হবে ডব্লিউ ভি এ অডিটোরিয়াম (২৫ আগস্ট) বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠানটি শুর হয় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন মো আনুসুল হক সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন শিক্ষাবিদ সভাপতি বাংলাদেশ আর্কিটেক্ট ইন্সটিটিউট, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রারবেন চিত্র শিল্পী রফিকুন নবী অধ্যাপক ও প্রাক্তন ডিন চারুকলা অনুষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সমাপনী বক্তব্য রাখবেন নাজমা শফিক সভাপতি বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি, আবেদা ইসলাম এমি অ্যাওয়ার্ড প্রধান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন সুরাইয়া রহমান সহ সভাপতি বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।